স্বাধীন সংবাদ ডেস্ক:
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শহীদ ডা. শামসুল আলম খান মিলনের স্মরণে বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে দেওয়া বাণীতে জাতীয় ঐক্য অটুট রাখার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, দেশের জনগণ যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে, তাহলে কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হতে পারবে না।
ডা. মিলন দিবসের উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে তারেক রহমান উল্লেখ করেন, ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে অর্জিত বিজয় দেশের নতুনভাবে স্বাধীনতার পথে প্রবাহ সৃষ্টি করেছিল। কিন্তু তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘দেশমাতৃকার বিরুদ্ধে দেশি-বিদেশি চক্রান্ত’ এখনও থেমে যায়নি।
১৯৯০ সালের এই দিনে স্বৈরশাসনবিরোধী আন্দোলনের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় ঢাকার তৎকালীন সরকারের সমর্থিত সন্ত্রাসীদের গুলিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষক ডা. শামসুল আলম খান মিলন নিহত হন। তার এই আত্মত্যাগ সাধারণ জনগণকে আন্দোলনে অংশগ্রহণের প্রেরণা দিয়েছিল এবং সরকারের পতনের পথ সুগম করেছিল।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, “ডা. মিলনের আত্মদান গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে এক অনিবার্য বাঁক তৈরি করেছিল। তার আত্মত্যাগ আমাদের কাছে আজও এক জীবন্ত প্রেরণার উৎস।” তিনি শহীদ ডা. মিলনের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন।
তারেক রহমান আরও বলেন, ডা. মিলনের রক্তঝরা মৃত্যু ৯ বছরের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনকে চূড়ান্ত বিজয়ের দিকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা ছিল তার অটুট অঙ্গীকার। তার আত্মত্যাগ বাংলাদেশের জনগণকে গণতন্ত্রের মূল মন্ত্র অনুসরণে অনুপ্রাণিত করেছে।
তিনি বলেন, “বুকের তাজা রক্তের বিনিময়ে ডা. মিলন গণতন্ত্রের বিজয় এনেছিলেন। এই পথ ধরেই দেশে স্বৈরাচারের পতন ঘটে এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দেশে গণতন্ত্রের নবযাত্রা শুরু হয়।”
তারা আরও উল্লেখ করেন, ডা. মিলনের আত্মত্যাগ শুধু একটি ইতিহাস নয়, এটি বর্তমান প্রজন্মের জন্য একটি শিক্ষণীয় দৃষ্টান্ত। দেশের মানুষ যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে এবং সংহতি বজায় রাখে, তাহলে কোনো স্বার্থপর বা শত্রুমূলক চক্রান্ত দেশকে বিভ্রান্ত করতে পারবে না।
ডা. মিলনের আত্মত্যাগকে স্মরণ করে বিএনপি নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক মহল এদিন বিভিন্ন প্রগতিশীল উদ্যোগ ও সমাবেশে অংশগ্রহণ করে। তারেক রহমানের বাণী দেশবাসীকে জাতীয় ঐক্য এবং গণতন্ত্র রক্ষার জন্য উদ্বুদ্ধ করছে।
ডা. মিলনের জীবন ও তার আদর্শ আজও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনচেতনা, যুব সমাজের দেশপ্রেম এবং সকল নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার মনোবলকে শক্তিশালী করে। তাঁর স্মরণে আয়োজন করা এই দিবস দেশের ইতিহাসের এক অমলিন অধ্যায় হিসেবে রয়ে গেছে।