এন আলম রাসেল চৌধুরী:
জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের সাড়াশি অভিযানে মাদকসহ আটক ৯ জন। চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ এলাকায় পরিচালিত এই বিশেষ অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী ও পরোয়ানাভুক্ত আসামীসহ মোট ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সহকারী পুলিশ সুপার মীরসরাই সার্কেল নাদিম হায়দার চৌধুরীর তত্ত্বাবধান ও নির্দেশনায় এবং জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আব্দুল হালিমের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
এসআই হান্নান আল মামুন সঙ্গীয় ফোর্সসহ বারইয়ারহাট পৌরসভার উত্তর সোনাপাহাড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে মেহেদী হাসান হৃদয়কে ইয়াবাসহ গ্রেফতার করেন। এসআই আমিনুল ইসলাম জোরারগঞ্জ বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে সৌরভ, তোহা মিয়া এবং এমরান হোসেনকে গাঁজাসহ আটক করেন।
এসআই লিটন চন্দ্র নাথ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাসে তল্লাশি চালিয়ে আশরাফুল ইসলাম ও হারুনুর রশীদকে বিপুল পরিমাণ গাঁজাসহ গ্রেফতার করেন। এছাড়া এসআই মনির আহম্মদ পরোয়ানাভুক্ত আসামী ইনামুল হক শামীমকে নিজ বাড়ি থেকে আটক করেন।
এএসআই সুজন মিয়া কোতয়ালী থানার পরোয়ানাভুক্ত রবিউল হোসেনকে গ্রেফতার করেন। পরে লিটন চন্দ্র নাথ সন্দেহজনক নুর ইসলাম সাগরকে আটক করেন।
পুলিশ জানায়, আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদক ও পরোয়ানা সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে এবং তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অভিযান শেষে পুলিশ জানায় মাদক নির্মূলে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জোরারগঞ্জ এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে দীর্ঘদিন ধরে মাদক বাণিজ্যের তথ্য পাওয়া যাচ্ছিল। এ তথ্যের ভিত্তিতেই পুলিশের একাধিক টিম গোপন নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় স্থানীয় জনসাধারণের সহযোগিতাও পাওয়া যায় বলে পুলিশ জানায়।
পুলিশ আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিল বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলেও নিশ্চিত হওয়া গেছে। গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার চেষ্টা চলছে, যা ভবিষ্যতে বড় মাদক চক্রের সন্ধান দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া কর্মকর্তারা জানান, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। শুধু মাদক নয়, বিভিন্ন পরোয়ানাভুক্ত ও অপরাধীদের গ্রেফতারের ক্ষেত্রেও এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এছাড়া স্থানীয় সচেতন মহল পুলিশের এই সফল অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছে এবং নিয়মিত এ ধরনের অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছে। তারা মনে করেন, এ ধরনের কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে এলাকায় মাদক ব্যবসা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আসবে।
পুলিশ প্রশাসন জানায়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং যুব সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে অভিযান আরও জোরদার করা হবে এবং কোনো অপরাধীকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়।
অভিযান শেষে পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, মাদকবিরোধী এই কার্যক্রম শুধু গ্রেফতারেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং মাদক সরবরাহ চেইন শনাক্ত করতেও কাজ চলছে। গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই করে পুরো নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে জোরারগঞ্জ থানার পক্ষ থেকে স্থানীয় জনগণকে আহ্বান জানানো হয়েছে, তারা যেন মাদক সংক্রান্ত কোনো তথ্য পেলে দ্রুত পুলিশকে অবহিত করেন। এতে করে অপরাধ দমন কার্যক্রম আরও সহজ ও কার্যকর হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
পুলিশের এই ধারাবাহিক অভিযানকে ঘিরে এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। অনেকেই আশা করছেন, নিয়মিত এমন অভিযান চললে এলাকায় মাদক ব্যবসা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং তরুণ সমাজ নিরাপদ থাকবে।
অপরাধ দমনে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের এই পদক্ষেপকে স্থানীয় প্রশাসনও ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। তারা বলছে, সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। তাই পুলিশ, প্রশাসন ও জনগণকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটি পর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রমও বাড়ানো হবে বলে জানানো হয়। পুলিশ আশা করছে, ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে এলাকা দ্রুতই মাদকমুক্ত পরিবেশে ফিরবে। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন নিয়মিত মনিটরিং করবে এবং অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান বজায় রাখবে বলে পুনরায় নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি অভিযান অব্যাহত থাকবে সার্বক্ষণিকভাবে। নিশ্চয়ই কার্যকরভাবে।