সঞ্জিত বণিক:
চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ থানার পুলিশের বিশেষ অভিযানে একটি বিদেশি সেমি-অটোমেটিক পিস্তল, ৯ রাউন্ড তাজা গুলি, দেশীয় ধারালো অস্ত্র এবং ভারতীয় স্কপ সিরাপসহ দুইজন চিহ্নিত সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক, বিস্ফোরক, চুরি, হত্যাচেষ্টা ও অন্যান্য গুরুতর অভিযোগে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল হালিমের নেতৃত্বে এসআই (নিঃ) মো. ফারুক উদ্দিন সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যদের নিয়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার (২ আগস্ট) রাত ২টা ২০ মিনিটে জোরারগঞ্জ থানাধীন ২ নম্বর হিঙ্গুলী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব হিঙ্গুলী এলাকায় বোরহান উদ্দিনের বসতবাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে বোরহান উদ্দিন (৩৪) ও তার সহযোগী রহিম উল্লাহ রনি (৩৫)কে আটক করা হয়।
তল্লাশি চালিয়ে বোরহান উদ্দিনের হেফাজত থেকে একটি কালো রঙের বিদেশি তৈরি ৭.৬২ বোরের সেমি-অটোমেটিক পিস্তল, একটি সিলভার রঙের ম্যাগাজিন, ৯ রাউন্ড তাজা গুলি, একটি কাঠের বাটযুক্ত লম্বা ছোরা, একটি লাল কসটেপ মোড়ানো কাঠের বাটযুক্ত ছোরা, একটি ফোল্ডিং সুইচ গিয়ার এবং একটি ভারতীয় তৈরি স্কপ সিরাপ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া তার সহযোগী রহিম উল্লাহ রনির কাছ থেকেও একটি ভারতীয় তৈরি স্কপ সিরাপ জব্দ করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। বোরহান উদ্দিন পূর্ব হিঙ্গুলী কদমতলা এলাকার বাসিন্দা এবং রহিম উল্লাহ রনি করেরহাট ইউনিয়নের ছত্তরুয়া এলাকার বাসিন্দা বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশের তথ্যমতে, গ্রেফতারকৃত বোরহান উদ্দিন একজন তালিকাভুক্ত অপরাধী। তার বিরুদ্ধে জোরারগঞ্জ, মীরসরাইসহ বিভিন্ন থানায় হত্যাচেষ্টা, অপহরণ, বিস্ফোরক দ্রব্য, বিশেষ ক্ষমতা আইন, ভাঙচুর, সরকারি কাজে বাধা, চুরি, মারামারিসহ বিভিন্ন অভিযোগে অন্তত ৯টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
অন্যদিকে রহিম উল্লাহ রনির বিরুদ্ধেও জোরারগঞ্জ, লোহাগাড়া, পটিয়া, রামু, সীতাকুণ্ড ও ছাগলনাইয়া থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, চুরি ও অন্যান্য অপরাধে ৯টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। পুলিশের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।
জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, দেশীয় অস্ত্র ও মাদক জব্দ করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে পৃথক মামলা রুজু করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল হালিম বলেন, “অপরাধ দমনে পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সন্ত্রাস, অস্ত্র ও মাদক নির্মূলে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।”
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও গুলির উৎস এবং তাদের সঙ্গে আর কারা জড়িত রয়েছে, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে। পাশাপাশি তাদের অপরাধচক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।