মোঃ আনজার শাহ
শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়া ও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উৎসাহিত করতে কুমিল্লার ঝলম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করেছে রোটারি ক্লাব অব কুমিল্লা।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় রোটারির বেসিক এডুকেশন অ্যান্ড লিটারেসি মাস উপলক্ষে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের হাতে খাতা, কলম, জ্যামিতি বক্সসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় শিক্ষা সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।
রোটারি ক্লাব অব কুমিল্লার প্রেসিডেন্ট জীবন কৃষ্ণ চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের সাবেক প্রেসিডেন্ট (পিপি) রোটারিয়ান ইকবাল আমিন, ক্লাব সেক্রেটারি আব্দুল মান্নান, বরুড়া থানা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও ঝলম উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ মাসুদ মজুমদার, ঝলম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. গোলাম খাজা, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিউলি নাসরিন, অভিভাবক প্রতিনিধি ওমর ফারুক, সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, মোস্তাক আহমেদ, আব্দুস সাত্তার, মোহছেনা বেগম, শম্পা রানী দেবী ও ফরিদা আক্তারসহ শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন রোটারি ক্লাব অব কুমিল্লার প্রেসিডেন্ট জীবন কৃষ্ণ চক্রবর্তী। তিনি বলেন, প্রতিবছর সেপ্টেম্বর মাসকে রোটারি বেসিক এডুকেশন অ্যান্ড লিটারেসি মাস হিসেবে পালন করে। শিক্ষা ও সাক্ষরতার মাধ্যমে সমাজে স্থায়ী পরিবর্তন আনা এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে শিক্ষার সুযোগ পৌঁছে দেওয়াই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।
তিনি বলেন, এ মাসজুড়ে রোটারিয়ানরা বই বিতরণ, পাঠাগার স্থাপন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং প্রাপ্তবয়স্কদের সাক্ষরতা কার্যক্রমসহ নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে থাকেন। বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ এখনও পড়তে ও লিখতে পারে না; একই সঙ্গে অসংখ্য শিশু মৌলিক শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত। তাই শিক্ষার প্রসারে সামাজিক সংগঠনগুলোর পাশাপাশি সামর্থ্যবান ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে।
জীবন কৃষ্ণ চক্রবর্তী আরও বলেন, একটি বই, একটি শ্রেণিকক্ষ কিংবা একজন শিক্ষকের প্রশিক্ষণ প্রতিটিই একটি শিশুর ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে। শিক্ষাই শান্তি, উন্নয়ন ও মানবিক সমাজ গঠনের অন্যতম ভিত্তি। ঝলম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উৎসাহিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা উপকরণ হাতে পেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়। আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক ও শিক্ষাবান্ধব কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তাঁদের প্রত্যাশা, এমন উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনায় আরও মনোযোগী করবে এবং শিক্ষার প্রতি তাদের আগ্রহ বাড়াবে।
রোটারির সেপ্টেম্বর মাসের এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য মৌলিক শিক্ষা ও সাক্ষরতা জোরদার করা এবং শিক্ষার সুযোগকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করা।