আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারে। গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৫ ডলারের ওপরে উঠেছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সিঙ্গাপুরের বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ৩২ ডলার বা ১ দশমিক ২৭ শতাংশ বেড়ে ১০৫ দশমিক ৬৪ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ৭০ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৭৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৩ দশমিক ১১ ডলারে দাঁড়ায়।
গত সপ্তাহে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি শান্তি প্রস্তাব পাঠায় বলে জানা গেছে। কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পাঠানো ওই প্রস্তাব ট্রাম্প শনিবার প্রত্যাখ্যান করেন। তবে রোববার তিনি জানান, চলতি সপ্তাহে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে আরও আলোচনা হতে পারে।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে উদ্বেগ
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তা তেলের বাজারে চাপ সৃষ্টি করছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এবং সৌদি আরবসহ ওই অঞ্চলে হামলার খবরের কারণে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তেল সরবরাহ ও পরিবহন ব্যয় আরও বাড়তে পারে। অন্যদিকে কূটনৈতিক আলোচনা এগিয়ে গেলে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক থাকলে বাজারের পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসতে পারে।
আমদানিনির্ভর দেশগুলোতে প্রভাবের আশঙ্কা
বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়লে জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে দীর্ঘ সময় তেলের দাম বেশি থাকলে আমদানি ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি পরিবহন খরচ ও মূল্যস্ফীতিতেও প্রভাব পড়তে পারে।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে দেশের জ্বালানি মূল্য ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে এর প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করবে আমদানি ব্যয়, মজুত, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার এবং স্থানীয় মূল্য নির্ধারণের ওপর।