ঠাকুরগাঁওয়ে ভোটের অনিয়মের অভিযোগ জামায়াত প্রার্থীর স্বচ্ছ নির্বাচন দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোট বর্জন নয়, বরং নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন। ভোটকেন্দ্রে পরিচয়পত্র না থাকা, ব্যালট বইয়ে আগাম সিল মারা এবং নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রত্যাশিত প্রস্তুতি দেখা যায়নি।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার দোয়ালপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এসব অভিযোগ করেন তিনি।

দেলাওয়ার হোসেন বলেন, তাঁরা ভোট বর্জন করার জন্য নির্বাচনে অংশ নেননি। তাঁদের দাবি, নির্বাচন নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ হতে হবে। এই নির্বাচনের পর আরেকটি স্থানীয় নির্বাচন রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরবর্তী নির্বাচন গ্রহণযোগ্য করতে হলে বর্তমান নির্বাচনেও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।

ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জামায়াতের এই প্রার্থী অভিযোগ করেন, কয়েকজন প্রিসাইডিং, সহকারী প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তার পরিচয়পত্র পাওয়া যায়নি। তাঁদের কেউ কেউ পরিচয়পত্র সরবরাহ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন। আবার কিছু পরিচয়পত্রে ছবি ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর মতে, পরিচয়পত্র ও ছবি না থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।

ব্যালট বইয়ে আগাম সিল মারার অভিযোগ তুলে দেলাওয়ার হোসেন বলেন, ২০ থেকে ২৫টি ব্যালট বইয়ে আগে থেকেই সিল মারা ছিল, যা উদ্বেগজনক। তাঁর দাবি, এ ধরনের ঘটনা ভোটগ্রহণে অনিয়মের সুযোগ তৈরি করতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে দুই থেকে তিনটি ব্যালট পেপার দিয়ে ভোটারদের সহযোগিতা করার অভিযোগও তাঁদের কাছে এসেছে বলে জানান তিনি।

এ ছাড়া জাল ভোট দিতে গিয়ে পাঁচ থেকে ছয়জন বিএনপি কর্মী ধরা পড়েছেন বলে দাবি করেন দেলাওয়ার হোসেন। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে ধানের শীষের প্রতীকসংবলিত গেঞ্জি পরে দলবদ্ধভাবে কিছু লোক ভোটকেন্দ্রের বুথে প্রবেশ করছেন। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

দেলাওয়ার হোসেন বলেন, তাঁরা এমন একটি নির্বাচন চান, যেখানে ব্যাপক অনিয়ম ও জাল ভোটের অভিযোগ থাকবে না। তাঁর ভাষ্য, মাগুরা, বগুড়া ও শেরপুরের নির্বাচনের মতো পরিস্থিতি তাঁরা দেখতে চান না। সারা দেশে মাত্র একটি আসনে উপনির্বাচন হলেও সেখানে যে ধরনের প্রস্তুতি থাকা প্রয়োজন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে তা দেখা যায়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সদর, রুহিয়া ও ভূল্লী এলাকায় মোট ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় ১১৩টি, নবগঠিত রুহিয়া উপজেলায় ৩৩টি এবং ভূল্লী উপজেলায় ৩৯টি কেন্দ্র রয়েছে।

এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৫ হাজার ৮৫৩ জন। তাঁদের মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৫৭ হাজার ২১৯ জন, নারী ২ লাখ ৫৮ হাজার ৬৩০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার চারজন। এ ছাড়া পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন ২৮৭ জন। তাঁদের মধ্যে পুরুষ ২৪৯ জন এবং নারী ৩৮ জন।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে এ আসনে ছয়জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। তাঁরা হলেন বিএনপির মির্জা ফয়সল আমীন ও মো. ওবায়দুল্লাহ মাসুদ, জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফেজ ডা. মো. খাদেমুল ইসলাম, মো. আবদুল আলীম নিজামী এবং হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক। তবে ৫ অক্টোবর দলীয় সিদ্ধান্তে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন বিএনপির মো. ওবায়দুল্লাহ মাসুদ। ফলে চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন পাঁচজন। তাঁদের মধ্যে বিএনপির মির্জা ফয়সল আমীন ও জামায়াতের দেলাওয়ার হোসেনের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২ লাখ ২৮ হাজার ৭৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের দেলাওয়ার হোসেন পেয়েছিলেন ১ লাখ ৩২ হাজার ৫৮৪ ভোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হাফেজ ডা. মো. খাদেমুল ইসলাম পেয়েছিলেন ৩ হাজার ৮৩৩ ভোট। পরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় আসনটি শূন্য হয়। এরপর সেখানে উপনির্বাচনের আয়োজন করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *