মোঃআনজার শাহ
পরিকল্পনাটি ছিল নিখুঁত। গায়ে ডিবি পুলিশের পোশাক, হাতে হ্যান্ডকাফ, সঙ্গে ধারালো অস্ত্র। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা আট সদস্যের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল কবরস্থানের আড়ালে অন্ধকারে জড়ো হয়েছিল গরু ডাকাতির চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়ে। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। তৎপর পুলিশের কাছে ফাঁস হয়ে যায় পুরো পরিকল্পনা। রাতের অন্ধকারেই অভিযান চালিয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ আটক করা হয় পুরো দলটিকে।
গত সোমবার রাত ১০টা ৫০ মিনিটে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার ৪নং খোশবাস (দক্ষিণ) ইউনিয়নের বড় হরিপুর এলাকায় মুগুজী থেকে হরিপুরগামী পাকা রাস্তার পশ্চিম পাশে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদের চেয়ারম্যানের পারিবারিক কবরস্থানের পাকা সীমানাপ্রাচীরের ভেতর থেকে অস্ত্রসহ এই আট ডাকাতকে গ্রেফতার করে বরুড়া থানা পুলিশ।
যেভাবে চলত ডাকাতি,
গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পেরেছে, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত কৌশলে ডাকাতি করে আসছিল। পলাতক ও অজ্ঞাতনামা সহযোগীদের সঙ্গে মিলে তারা পিকআপ ও মাইক্রোবাসে করে দেশের বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়কে গরুসহ নানা মালামাল লুট করত। ডিবি পুলিশের পোশাক পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষকে থামিয়ে তারপর ডাকাতি করাই ছিল এই চক্রের মূল কৌশল।
যা উদ্ধার হয়েছে,
গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে পুলিশ উদ্ধার করেছে দুটি ডিবি লেখা কুর্তা, একটি হ্যান্ডকাফ ও দুটি চাবি, একটি নীল রঙের লেজার লাইট, একটি স্টিলের ম্যাজিক স্টিক, একটি কাঠের বাঁটযুক্ত হাতুড়ি, একটি সিলভার রঙের স্টিলের পাইপ দিয়ে তৈরি চাইনিজ কুড়াল সদৃশ ধারালো দেশীয় অস্ত্র, একটি কাঠের বাঁটযুক্ত ধারালো ছুরি, একটি কাঠের বাঁটযুক্ত লম্বা ধারালো ছুরি এবং একটি স্টিলের কাটার।
গ্রেফতারকৃতরা কারা,
আটক আট জনের বাড়ি দেশের বিভিন্ন জেলায়। তারা হলেন পটুয়াখালীর দশমিনা থানার রাম বল্লভ গ্রামের মোঃ খলিলুর রহমান (৪৯), বরিশালের আগৈলঝারা থানার চাঁদত্রিশিরা গ্রামের মোঃ সুমন মোল্লা (৪১), পটুয়াখালীর বাউফল থানার বিলবিলাস গ্রামের মোঃ হারুন মল্লিক (৪৬), বরগুনার আমতলী থানার কেরাবুনিয়া গ্রামের মোঃ মাহতাব হোসেন মৃধা (৩৮), ভোলার তজমুদ্দিন থানার বদলীপুর গ্রামের আবুল কাশেম ওরফে কাসেম (৪৪), পটুয়াখালীর দশমিনা থানার বেতাগী গ্রামের মোঃ সোহাগ রানা (৪৫), একই থানার মোঃ মোশারফ মেলকার (৪৬) এবং পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী থানার চর আন্ডা গ্রামের মোঃ নুরুল হক (৪৪)।
অভিযানের নেতৃত্বে যাঁরা ছিলেন,
সহকারী পুলিশ সুপার (কুমিল্লা সদর দক্ষিণ সার্কেল) মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌসের তত্ত্বাবধান ও নির্দেশনায় বরুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী নাজমুল হকের নেতৃত্বে এই সফল অভিযানটি পরিচালিত হয়। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে ডাকাতি প্রস্তুতির মামলা রুজু করা হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
বরুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী নাজমুল হক মুঠোফোনে জানান, “এই কার্যক্রম আমরাই পরিচালনা করেছি। গ্রেফতারকৃতদের বাড়ি ভোলা, বরিশাল, পটুয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। তারা সংঘবদ্ধভাবে দীর্ঘদিন ধরে এই অপকর্ম চালিয়ে আসছিল।”
পলাতকদের ধরতে অভিযান চলছে,
পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রের সঙ্গে আরও কয়েকজন পলাতক ও অজ্ঞাতনামা সদস্য জড়িত রয়েছে। তাদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পোশাক ও পরিচয় ব্যবহার করে ডাকাতির এই ঘটনা এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সচেতন নাগরিক মহল মনে করছেন, এ ধরনের অপরাধ দমনে পুলিশের তৎপরতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।