ডেমরা রেজিস্ট্রি অফিসে দুর্নীতির রাজত্ব, তুহিন–সাজু সিন্ডিকেটের দাপট

স্টাফ রিপোর্টার:

ঢাকার ডেমরা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে ক্ষোভ জমছে এলাকাবাসীর মধ্যে। স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত তুহিন নামের এক অফিস সহকারী এবং বিএনপির এক প্রভাবশালী নেতার আত্মীয় পরিচয়ধারী নকলনবিশ সাজুর নেতৃত্বে সেখানে গড়ে উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট।
অভিযোগ রয়েছে, তুহিন একসময় ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। তার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা এলাকায়। স্থানীয়দের দাবি, তার মা সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। সেই সময়ের রাজনৈতিক পরিচয় ও যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি অফিস সহকারী পদে চাকরিতে যোগ দেন। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই তার জীবনযাত্রায় চোখে পড়ার মতো পরিবর্তন আসে।
ঢাকার বিভিন্ন রেজিস্ট্রি অফিসে দায়িত্ব পালনের পর গত ৫ আগস্টের পর তুহিনকে ডেমরা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে পোস্টিং দেওয়া হয়। সেখানে যোগ দেওয়ার পরপরই তিনি একটি শক্তিশালী চক্র গড়ে তোলেন বলে অভিযোগ। এই চক্রের আরেক গুরুত্বপূর্ণ সদস্য নকলনবিশ সাজু।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সাজু নিজেকে বিএনপির এক প্রভাবশালী নেতার আত্মীয় পরিচয় দিয়ে প্রকাশ্যে দাপট দেখান। স্থানীয় কিছু লোকের সহযোগিতায় তিনি পুরো রেজিস্ট্রি অফিস কার্যত নিয়ন্ত্রণে রাখছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নকলনবিশ বলেন,
“সাজুর অত্যাচারে আমরা অতিষ্ঠ। অফিসে কাজ করতে গেলেই ভয় লাগে। কখন কী হয়, সেই আতঙ্কে থাকি।”
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, তুহিন ও সাজুর নামে–বেনামে কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে। বাড়ি, গাড়ি ও ফ্ল্যাটের কথাও শোনা যাচ্ছে। তবে এসব সম্পদের বৈধ উৎস নিয়ে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন।
এদিকে, সাজুর বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি বিভিন্ন সাংবাদিককে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন এবং প্রকাশ্যে বলেন,
“আমার অনেক টাকা। ৫০০–১০০০ টাকা নিয়ে যান। মিডিয়ার লোকজন আমাদের পকেটে থাকে।”
এ বিষয়ে সাব-রেজিস্ট্রারের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলে, তুহিন ও সাজুর প্রভাবের কারণে তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
ডেমরা এলাকার সাধারণ মানুষ এই সিন্ডিকেটের হাত থেকে রেহাই পেতে জেলা রেজিস্ট্রার এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত তদন্ত ও ব্যবস্থা না নেওয়া হলে রেজিস্ট্রি অফিসে সেবা নিতে আসা মানুষ আরও বেশি হয়রানির শিকার হবে।

ডেমরা সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ঘিরে ওঠা এসব অভিযোগ নিয়ে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য ও ছবি নিয়ে আগামী সংখ্যায় বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে বলে জানা গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *