মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের সিদ্ধিরগঞ্জে জালকুড়ি ফ্লাইওভারে প্রাইভেটকার ও সিএনজির সংঘর্ষে সিনথিয়া রহমান হুমাইরা (৬) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময় সিএনজিতে থাকা নিহত সিনথিয়া রহমান হুমাইরার বাবা আশিকুর রহমান শামীম, তার মা সানজিদা, ছোট ভাই আয়মান (১) ও সিএনজি চালক আহত হয়েছেন।
তাৎক্ষণিকভাবে আহত সিএনজি চালকের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। আহতদের মধ্যে মা সানজিদার অবস্থা আশঙ্কাজনক। শুক্রবার (১৯ জুন) রাত ১০টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তারা মুন্সীগঞ্জ জেলার বাসিন্দা।
জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া থেকে ঢাকামুখী সাইনবোর্ডগামী জালকুড়ি ফ্লাইওভারের ওপর চলন্ত একটি সিএনজিকে অপর একটি প্রাইভেটকার ওভারটেক করতে গিয়ে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে মুহূর্তেই সিএনজিটি দুমড়েমুচড়ে যায়। সিএনজিতে থাকা চার সদস্যের একটি পরিবারের একজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং অপর তিনজন ও চালকসহ মোট চারজন গুরুতর আহত হন।
এ সময় যাত্রীদের মধ্যে একটি শিশু ফ্লাইওভার থেকে ছিটকে মূল সড়কে পড়ে যায়। এ ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় জনতা প্রাইভেটকারের ভেতরে থাকা দুজনকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। একপর্যায়ে ওই দুজনকে তল্লাশি করলে তাদের কাছে একটি খেলনা পিস্তল পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে দুর্ঘটনার শিকার আশিকুর রহমান শামীম জানান, “আমরা সিএনজিতে চড়ে নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া থেকে সাইনবোর্ডে যাওয়ার পথে ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হই। ঘটনাস্থলেই আমার ৬ বছরের মেয়েটি মারা গেছে। আমার স্ত্রী আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছে। বিভিন্ন হাসপাতালে ছোটাছুটি করছি। আমি এবং আমার ১ বছরের শিশুটি বড় ধরনের কোনো আঘাত পাইনি। তবে সিএনজি চালকেরও অবস্থা খারাপ ছিল।”
ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনকারী সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মফিজুর রহমান বলেন, ঢাকামুখী একটি সিএনজিকে একই দিক থেকে আসা একটি প্রাইভেটকার ধাক্কা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে শিশু হুমাইরা ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। তার মা গুরুতর আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় সিএনজি চালক ও নিহত শিশুর বাবা-মাসহ মোট পাঁচজন আহত হয়েছেন।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমদাদুল হক বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে। দুর্ঘটনায় জড়িত প্রাইভেটকারটি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।