ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচিতে জাকারিয়া তাহের

 

মোঃআনজার শাহ

মানবতার সেবায় স্বেচ্ছায় রক্তদানের মহৎ বার্তা ছড়িয়ে দিতে ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজে অনুষ্ঠিত হয়েছে “ORWA – Heroes of Hope Blood Donation Campaign”। কলেজ আয়োজিত এই স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি–২০২৬-এ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জনাব জাকারিয়া তাহের, এমপি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি তরুণ প্রজন্মের এই মানবিক উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, রক্তদান শুধু একটি সামাজিক কর্মসূচি নয় এটি মানুষের প্রতি মানুষের দায়বদ্ধতা ও মানবিকতার এক অনন্য প্রকাশ। তাঁর ভাষায়, একজন মানুষের দেওয়া এক ব্যাগ রক্ত সংকটাপন্ন আরেকজন মানুষের জীবনে বেঁচে থাকার নতুন আশার আলো জ্বালাতে পারে।

ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের একজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী হিসেবে অনুষ্ঠানে এসে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী। দীর্ঘদিন পর প্রিয় শিক্ষাপ্রাঙ্গণে ফিরে তিনি স্মরণ করেন শৈশব-কৈশোরের নানা স্মৃতি। তিনি বলেন, এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শৃঙ্খলা, শিক্ষা, খেলাধুলা ও সহশিক্ষা কার্যক্রম তাঁর জীবন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

জাকারিয়া তাহের আরও বলেন, ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়; এটি দেশের শিক্ষা, শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব ও মানবিক মূল্যবোধ গঠনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এখানকার শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও রোবটিক্সসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজেদের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে চলেছে। প্রতিষ্ঠানের এই ঐতিহ্য ও সুনাম ভবিষ্যতে আরও সমৃদ্ধ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তরুণদের স্বেচ্ছায় রক্তদানে উৎসাহিত করে তিনি বলেন, সমাজের অসহায় ও সংকটাপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সবচেয়ে সুন্দর উপায়গুলোর একটি হলো রক্তদান। তরুণদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়িত্ববোধ যত বেশি বিকশিত হবে, ততই একটি সহমর্মী ও মানবিক সমাজ গড়ে উঠবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ, অতিথি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, তরুণদের যেকোনো ইতিবাচক মানবিক উদ্যোগে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে তিনি ও তাঁর সহকর্মীরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।
ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের এই রক্তদান কর্মসূচি তরুণদের মধ্যে মানবিকতা, স্বেচ্ছাসেবা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে দিয়েছে, মানবতার প্রয়োজনে এগিয়ে আসার শক্তি ও মানসিকতা নতুন প্রজন্মের মধ্যে গভীরভাবেই বিদ্যমান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *