এ আর সুমন:
কবীর ও লালনের মানবতাবাদী দর্শন, ভাবধারা ও সংগীতকে মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে ঢাকাসহ দেশের আট বিভাগব্যাপী আয়োজিত কবীর-লালন ভাবসংগীত উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর বিকেলে রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি মাঠে আয়োজিত এ উৎসবে কবীর ও লালনের দর্শন, অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং ভাবসংগীতের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, গবেষক, লেখক ও সাধকরা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় হাইকমিশনের মাননীয় হাইকমিশনার জনাব দীনেশ ত্রিবেদী।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লালন বিশ্বসংঘের চেয়ারম্যান প্রফেসর ইমেরিটাস ড. আনিসুজ্জামান। উৎসবে কবীর ও লালনের জীবন, দর্শন, ভাবধারা এবং সংগীতের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোকপাত করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, গবেষক ও সাধকরা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, পরিচালক, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট; অধ্যাপক ড. প্রিয়াঙ্কা গোপ, চেয়ারম্যান, সংগীত বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; ড. মোঃ আহসানুল হাদী, অধ্যাপক, ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; ফকির আবুল হোসেন শাহ্, প্রবীণ লালনপন্থী সাধক, চুয়াডাঙ্গা; নিঝুম পাইনকা, কবীরপন্থী সাধক, শ্রীমঙ্গল এবং ডা. এম কে রায়, গুরুদুয়ারা নানকশাহী, ঢাকা।
ভারতের হাইকমিশনার জনাব দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, বিশ্বে যে মানবতার অবক্ষয় দেখা দিয়েছে, তা থেকে মুক্তি পেতে হলে কবীর-লালনের মতো সাধকদের অনুসরণ করতে হবে। আমাদের মানুষ হতে হবে। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিশেষ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট গবেষক, লেখক ও সুফি চিন্তাবিদ এবং অষ্টগ্রাম সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ ফাইয়াজ হাসান বাবু। তিনি বলেন, সংগীত ও সুর মানুষের হৃদয়কে কোমল করে, আর কোমল হৃদয়ের ডাক স্রষ্টার কাছে সহজে পৌঁছায়।
অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ দেন লালন বিশ্বসংঘের নির্বাহী পরিচালক আবদেল মাননান। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের শিল্পীদের সংগীত পরিবেশনা ও উৎসবে কবীরপন্থী সম্প্রদায়, রবিদাসপন্থী সম্প্রদায়, নানকপন্থী সম্প্রদায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগ এবং কবীর-লালন মিউজিক্যাল মিশনের শিল্পীরা সংগীত পরিবেশন করেন।
সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানে কবীর ও লালনের ভাবদর্শন এবং মানবতাবাদী চেতনার নানা দিক তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, কবীর ও লালনের জীবনদর্শনের মূলকথা হলো মানবতা, সাম্য, অসাম্প্রদায়িকতা ও মানুষের প্রতি ভালোবাসা। তাদের ভাবধারা ও সংগীত সমাজে বিভেদ দূর করে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অনুষ্ঠানের আয়োজকরা জানান, কবীর ও লালনের অসাম্প্রদায়িক মানবতাবাদী দর্শন এবং ভাবসংগীতকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় করাই এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।