কামরুল ইসলাম:
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া সদর ইউনিয়নে তথ্য গোপন করে ওয়ারিশ সনদ গ্রহণের অভিযোগে একটি ওয়ারিশ সনদ যাচাই-বাছাই শেষে বাতিল করা হয়েছে। তদন্তে সনদে উল্লেখিত তথ্যের সঙ্গে প্রকৃত তথ্যের মিল না পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সনদটির সত্যতা অপ্রমাণিত বলে উল্লেখ করেছে।
লোহাগাড়া সদর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) জাফর এবং প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নানের স্বাক্ষরিত এক তদন্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, তারা দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে সার্ভেয়ার মুহাম্মদ ইউসুফের সহযোগিতায় ২০১৪ সালের ২৪ নভেম্বর ৭৩৪ ও ৭৩৫ নম্বর স্মারকে ইস্যুকৃত ওয়ারিশ সনদের সঠিকতা যাচাই-বাছাই করেন। তদন্তে উপস্থাপিত কাগজপত্র, উভয় পক্ষের বক্তব্য এবং সাক্ষীদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে সনদে দেওয়া তথ্যের সত্যতা প্রমাণিত হয়নি।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মরহুম ফজর আলীর কন্যা আজিমুন্নেছা প্রথমে গোলাম বকসু নামে এক ব্যক্তিকে বিয়ে করেন। ওই দাম্পত্য জীবনে তাদের এক ছেলে ও দুই মেয়ে সন্তান রয়েছে বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়। পরবর্তীতে প্রথম স্বামী গোলাম বকসুর মৃত্যুর পর তিনি আবুল হোসেনকে দ্বিতীয় স্বামী হিসেবে গ্রহণ করেন। তবে দ্বিতীয় সংসারে তার কোনো সন্তান জন্মগ্রহণ করেনি।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানান, ওয়ারিশ সনদে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন বা ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ফলে প্রকৃত উত্তরাধিকারীদের বিষয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে এবং সনদটির আইনগত গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়।
এ কারণে পূর্বে ইস্যুকৃত ওয়ারিশ সনদের সত্যতা অপ্রমাণিত হওয়ায় সেটি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রকৃত উত্তরাধিকারীদের তথ্য যাচাই করে আইন ও বিধি মোতাবেক নতুন করে ওয়ারিশ সনদ প্রদানের সুপারিশ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ওয়ারিশ সনদকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ইউনিয়ন পরিষদ তদন্ত কমিটি গঠন করলে বিষয়টি পুনরায় যাচাই করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে প্রকৃত উত্তরাধিকারীদের তথ্য স্পষ্টভাবে উঠে আসার পর পূর্বের সনদের বৈধতা বাতিল করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ওয়ারিশ সনদ ইস্যুর ক্ষেত্রে যথাযথ তদন্ত ও তথ্য যাচাই নিশ্চিত করা হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের জটিলতা ও আইনি বিরোধ অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব হবে।