তেজগাঁও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অনিয়মের অভিযোগ, কর্মচারী গিয়াস উদ্দিনকে ঘিরে বাড়ছে বিতর্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর তেজগাঁও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসকে কেন্দ্র করে অনিয়ম, অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সরকারি সেবা ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন কার্যালয়ের কর্মচারী গিয়াস উদ্দিন। ভুক্তভোগী দলিল লেখক ও সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের দাবি, একজন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হলেও দীর্ঘদিন ধরে তিনি অফিসটির গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে অস্বাভাবিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন।

অভিযোগ রয়েছে, প্রতিদিন শতাধিক দলিল নিবন্ধন হওয়া এ অফিসে সরকারি নিয়মে সেবা নিতে গিয়ে অনেক গ্রাহককে নানা জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়। অথচ নির্দিষ্ট কিছু দালাল বা মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করলে একই কাজ তুলনামূলক দ্রুত সম্পন্ন হয়ে যায়। এতে সাধারণ সেবাগ্রহীতারা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক দলিল লেখক।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দলিল লেখক অভিযোগ করে বলেন, কোনো দলিল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সরকারি ফি ছাড়াও নির্দিষ্ট হারে কমিশন দিতে হয়। কমিশন দিতে অস্বীকৃতি জানালে আবেদনপত্রে বিভিন্ন ধরনের ত্রুটি দেখিয়ে ফাইল আটকে রাখা কিংবা অযথা বিলম্ব করা হয়। পরে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত অর্থ দিয়েই কাজ সম্পন্ন করতে হয় বলে তিনি দাবি করেন।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে গিয়াস উদ্দিন অফিসে নিজের একটি শক্তিশালী বলয় গড়ে তুলেছেন। এ কারণে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীও তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি, অফিসের বাইরে অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ওই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সরকারি সেবা বাণিজ্যে পরিণত হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

শুধু অফিস-সংশ্লিষ্ট অনিয়ম নয়, গিয়াস উদ্দিনের ব্যক্তিগত জীবনযাপন নিয়েও বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, অবৈধভাবে অর্জিত অর্থের মাধ্যমে তিনি বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন। যদিও এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন বা আদালতের পর্যবেক্ষণ এখন পর্যন্ত প্রকাশ হয়নি।

এ বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়, নিবন্ধন অধিদপ্তর এবং দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একাধিক লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে বলেও দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কোনো সংস্থার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা ব্যবস্থা নেওয়ার তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত গিয়াস উদ্দিনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

এদিকে সচেতন মহল মনে করছে, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা জরুরি। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সেবা গ্রহণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *