দায়িত্ব নিয়েই কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে গতিশীল করতে ২৫ দফা উদ্যোগ নিলেন চেয়ারম্যান উদবাতুল বারী আবু

মোঃআনজার শাহ

কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই প্রতিষ্ঠানটিকে কার্যকর, গতিশীল ও জনবান্ধব করতে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছেন মানবিক কুমিল্লার প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান, মানবিক নেতা হিসেবে পরিচিত উদবাতুল বারী আবু। দায়িত্ব নেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই প্রশাসনিক কাঠামো থেকে শুরু করে উন্নয়ন প্রকল্প পর্যন্ত বিভিন্ন খাতে তিনি যে কর্মপরিকল্পনা এগিয়ে নিয়েছেন, তাতে কুমিল্লাবাসীর মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।
সম্প্রতি স্বাধীন সংবাদ পত্রিকার প্রতিবেদক আনজার শাহকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে উদবাতুল বারী আবু জানান, গত ৪ জুলাই গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের এবং সংসদ সদস্য মনিরুল চৌধুরীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মাধ্যমে তিনি কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি বলেন, এই দায়িত্ব মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি আমানত। আল্লাহ যাকে পছন্দ করেন, তাকেই এমন দায়িত্ব দেন। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর ওপর যে আস্থা ও দায়িত্ব অর্পণ করেছেন, তা যথাযথভাবে পালনের চেষ্টা করবেন।

দায়িত্ব গ্রহণের পর ১৯ জুলাই পর্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজ হাতে নেন। সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, অস্থায়ী জনবল কাঠামো (রাজস্ব ও আউটসোর্সিং) সংক্রান্ত প্রস্তাব ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। কুউক লোগো নির্ধারণ, সাংগঠনিক কাঠামো প্রণয়ন, প্রবিধানমালা ও তফসিল প্রস্তুত, এবং প্রশাসনিক পদ সৃষ্টির যৌক্তিকতা নিরূপণের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে।

জনসেবামুখী কার্যক্রমে গতি আনতে ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্রের আবেদন ফরম, নকশা অনুমোদন ফরম, প্রকৌশলী-স্থপতি-ডেভেলপার নিবন্ধন ফরম এবং কুউক সিটিজেন চার্টার প্রণয়নের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের সেবাপ্রাপ্তি আরও সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি ওয়েবসাইট চালুর কাজ চলমান রয়েছে এবং পূর্ত ভবন, কুমিল্লায় দপ্তরের কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।
উন্নয়ন প্রকল্পের ক্ষেত্রেও একাধিক উদ্যোগ এগিয়ে চলছে। কুউক মাস্টার প্ল্যান প্রকল্প এখন পরিকল্পনা পর্যায়ে রয়েছে। কুউক অফিস বিল্ডিং প্রকল্প ও নিউ মার্কেট প্রকল্পের ডিপিপি প্রণয়নের কাজ চলছে। শহরের সৌন্দর্য বর্ধনের লক্ষ্যে ভাস্কর্য নির্মাণ প্রকল্প এবং জলবায়ু ফান্ড থেকে ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বৃক্ষরোপণ প্রকল্পও পরিকল্পনায় রয়েছে। এ ছাড়া কুউক অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্প ও প্লট প্রকল্প নিয়েও কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

মাদক, কিশোর অপরাধ ও সামাজিক অবক্ষয় রোধে কঠোর অবস্থানও ব্যক্ত করেন উদবাতুল বারী আবু। তিনি বলেন, মাদকের ভয়াবহতা নিয়ে ইতিমধ্যে সমাবেশ করা হয়েছে। পথশিশু ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধেও তারা সোচ্চার। মাদকসেবী, মাদকবিক্রেতা কিংবা অন্য কোনো অপরাধী কোনো দলের হতে পারে না; তারা কেবল দলের আবর্জনা। দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে কেউ অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি সাফ জানিয়ে দেন।

স্বল্প সময়ের মধ্যে এত বিস্তৃত পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন কার্যক্রম হাতে নেওয়ায় কুমিল্লার সচেতন মহলে আশার সঞ্চার হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, নতুন নেতৃত্বে কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ একটি গতিশীল, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপ নিতে পারে। মানবিক কুমিল্লার সহযোদ্ধারাও নেতার এই উদ্যোগে সর্বাত্মক সহযোগিতার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *