খেলা ডেস্ক:
জার্মান জাতীয় দলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম দুই ম্যাচেই জয়হীন থাকলেন ইয়ুর্গেন ক্লপ। উয়েফা নেশনস লিগে নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্রয়ের পর নিজেদের মাঠে গ্রিসের কাছে ১-০ গোলে হেরেছে জার্মানি।
গ্রিসের বিপক্ষে এই হারটি জার্মানির জন্য আরও হতাশার। দেশটির বিপক্ষে ফুটবল ইতিহাসে এটিই জার্মানির প্রথম পরাজয়।
তবে টানা দুই ম্যাচে প্রত্যাশিত ফল না পেলেও এখনই হতাশ হতে রাজি নন ক্লপ। গ্রিসের কাছে হারের পর জার্মানি কোচ বলেন, ‘এটা প্রক্রিয়ার অংশ।’ নতুন খেলোয়াড়দের নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং একাদশে পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের দায়ও নিজের কাঁধে নিয়েছেন তিনি।
ক্লপের পরিকল্পনা মূলত ২০২৮ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপকে সামনে রেখে দল পুনর্গঠন করা। প্রথম চার ম্যাচের জন্য ৪৪ জন খেলোয়াড় নিয়ে দুটি স্কোয়াড ঘোষণা করেছেন তিনি। এই সময়ের মধ্যে যত বেশি সম্ভব খেলোয়াড়কে দেখে দলের কাঠামো তৈরি করতে চান জার্মান কোচ।
গ্রিসের বিপক্ষে ম্যাচেও তার সেই পরিকল্পনার প্রতিফলন দেখা গেছে। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে খেলা একাদশ থেকে পাঁচটি পরিবর্তন করেন ক্লপ। নতুন খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি মাঠে তাঁর চাওয়া খেলার ধরন কতটা কার্যকর হচ্ছে, সেটিও পরখ করেন তিনি।
ক্লপের মতে, দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম ১৫ মিনিটে জার্মানি কিছুটা কাঙ্ক্ষিত ছন্দে ফিরেছিল। তবে পরে আবারও সেই ছন্দ হারিয়ে ফেলে দল।
গ্রিসের বিপক্ষে বলের দখল ও ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে থাকলেও পরিষ্কার গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি জার্মানি। উল্টো ৭৪ মিনিটে দিমিত্রিয়োস কুরবেলিসের ডিফ্লেক্টেড শটে গোল হজম করে স্বাগতিকরা।
ম্যাচের পর ফল নিয়ে নিজের অসন্তোষও প্রকাশ করেন ক্লপ। তিনি বলেন, ম্যাচটি বড় ব্যবধানে না জিতলেও কিংবা জয় না পেলেও তিনি মেনে নিতে পারতেন। তবে কোনোভাবেই হারতে চাননি তিনি। শেষ পর্যন্ত সেটিই ঘটেছে বলে হতাশা প্রকাশ করেন জার্মান কোচ।
জার্মানির সাবেক অধিনায়ক বাস্তিয়ান শোয়াইনস্টাইগারও দলের পারফরম্যান্স নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, দল প্রতিপক্ষের ওপর যথেষ্ট চাপ তৈরি করতে পারছে না। তবে ক্লপকে সরাসরি দায়ী না করে তিনি বলেন, ‘ক্লপ কোনো জাদুকর নন। এটা কঠোর পরিশ্রমের ব্যাপার।’
চলমান ফিফা উইন্ডোয় জার্মানির সামনে আরও দুটি ম্যাচ রয়েছে। ১ অক্টোবর মিউনিখে সার্বিয়ার বিপক্ষে এবং ৪ অক্টোবর এথেন্সে গ্রিসের বিপক্ষে ফিরতি লেগে মাঠে নামবে দলটি।