কামরুল ইসলাম:
ধর্মীয় ভক্তের পরিচয় দিয়ে বাসাবাড়িতে প্রবেশ করে কৌশলে স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এক প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম নগরের খুলশী থানা পুলিশ। অভিযোগ পাওয়ার মাত্র ১৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে চুরি যাওয়া স্বর্ণালংকারের একটি অংশ, নগদ টাকা ও অন্যান্য আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম সরোয়ার সরদার (৪২)। তিনি চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও থানার বহদ্দারহাট ব্রিজ এলাকার বাসিন্দা। তাঁর গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠি সদর উপজেলার কৃষ্ণকাঠি সুতালড়ি বেদেপল্লী এলাকায়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে সরোয়ার সরদার নিজেকে নারায়ণগঞ্জের বারদী লোকনাথ মন্দিরের একজন ভক্ত পরিচয় দিয়ে নগরের আমবাগান এলাকার একটি বাসায় প্রবেশ করেন। বাসায় ঢোকার পর তিনি ‘জয় বাবা লোকনাথ’ বলে ধর্মীয় ভক্তের মতো আচরণ করতে থাকেন এবং গৃহকর্তা অজিত ঘোষকে জানান, তিনি বারদী লোকনাথ মন্দির থেকে এসেছেন।
একপর্যায়ে তিনি বাড়ির সদস্যদের কাছে মাত্র ১১ টাকা প্রণামীর কথা বলেন। পরিবারের সদস্যরা বিষয়টিকে ধর্মীয় বিষয় মনে করে তার হাতে টাকা তুলে দেন। পরে তিনি প্রসাদের জন্য চাল দেওয়ার অনুরোধ করেন। এভাবে ধাপে ধাপে পরিবারের সদস্যদের বিশ্বাস অর্জন করে নানা কৌশল ও কথার ফাঁদে ফেলে তাদের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার সংগ্রহ করেন। সুযোগ বুঝে তিনি স্বর্ণালংকার নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবার খুলশী থানায় একটি মামলা দায়ের করে। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোজাম্মেল হকের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল তদন্তে নামে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, গোয়েন্দা তথ্য এবং বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
পরবর্তীতে ঘটনার মাত্র ১৪ ঘণ্টার মধ্যে নগরের হাজারী গলি এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে সরোয়ার সরদারকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
খুলশী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোজাম্মেল হক জানান, গ্রেপ্তারের সময় আসামির কাছ থেকে চুরি যাওয়া স্বর্ণালংকারের একটি অংশসহ বিভিন্ন মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত আলামতের মধ্যে রয়েছে তিন জোড়া স্বর্ণের কানের দুল, সিতা হারের পাঁচটি অংশ, পাথরযুক্ত একটি স্বর্ণের লকেট, গলানো পাঁচ আনা স্বর্ণ, দুটি স্মার্টফোন এবং নগদ ১৪ হাজার টাকা।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রতারণার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এই ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি বা সংঘবদ্ধ প্রতারকচক্র জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ছাড়া আসামির বিরুদ্ধে দেশের অন্য কোথাও একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্টরা জানান, ধর্মীয় পরিচয়, আধ্যাত্মিক বিশ্বাস কিংবা মানবিক আবেগকে কাজে লাগিয়ে প্রতারণার ঘটনা নতুন নয়। প্রতারকরা সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতির সুযোগ নিয়ে বাসাবাড়িতে প্রবেশ করে বিভিন্ন কৌশলে মূল্যবান মালামাল হাতিয়ে নেয়। তাই অপরিচিত কাউকে বাসায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার আগে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া, প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে তথ্য যাচাই করা এবং মূল্যবান সামগ্রী নিরাপদে সংরক্ষণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তারা আরও বলেন, ধর্মীয় আচার, প্রসাদ বিতরণ, অনুদান সংগ্রহ কিংবা সাহায্যের কথা বলে কেউ বাড়িতে এলে পরিবারের সদস্যদের সতর্ক থাকা উচিত। সন্দেহজনক কোনো ব্যক্তি বা ঘটনার বিষয়ে দ্রুত নিকটস্থ থানায় বা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।