মোশারফ হোসেন জসিম পাঠান:
ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার ৪ নম্বর চণ্ডীপাশা ইউনিয়নের মধ্য বাশাটি গ্রামে ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে পরিচিত মোঃ আমিনুল ইসলাম আবারও আলোচনায়। মৃত আব্দুল কুদ্দুছের ছেলে আমিনুলের বিরুদ্ধে বহুদিন থেকেই নারীলোভী, চাঁদাবাজ ও পরধন লোভীর মতো অভিযোগ স্থানীয়দের মুখে মুখে। সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ ডিসেম্বর সকালে প্রায় ৮টার দিকে পূর্বের চলমান আদালত মামলার জেরে পরিকল্পিতভাবে জমি দখল, ধান কাটা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটায় আমিনুল ও তার সহযোগীরা। একই গ্রামের মৃত মামুদ হোসেনের ছেলে মোঃ আব্দুল জলিল বাধা দিলে দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। এতে মহিলা সহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। আহত আব্দুল জলিল ও অন্যান্যদের চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এসে হামলাকারীদের হাত থেকে উদ্ধার করে দ্রুত নান্দাইল উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানকার চিকিৎসক রোগীদের শোচনীয় অবস্থা দেখে দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন।
ঘটনার পর আহত আব্দুল জলিলের শালা মোঃ রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে নান্দাইল মডেল থানার ওসির বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে আমিনুল ইসলামসহ ১২ জনকে সরাসরি এবং অজ্ঞাতনামা ৭-৮ জনকে আসামি করা হয়। মামলাটি নান্দাইল থানায় নং-২২ হিসেবে নথিভুক্ত হয়। অভিযোগ উঠেছে—মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বাদী পরিবারকে এখন বিভিন্নভাবে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে প্রতিপক্ষ আমিনুল গং। এতে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, জলিল এবং আমিনুলের মধ্যে ভূমি সংক্রান্ত মামলা পূর্ব থেকেই চলছে। তারই জেরে জলিলের মালিকানাধীন সাফ কাওলা জমির ধান কাটার চেষ্টা করলে বাধা দেওয়া হয়, আর সেখান থেকেই সংঘর্ষের সূত্রপাত। এ ঘটনায় আহতদের মধ্যে রয়েছেন—আব্দুল জলিল, মোছাঃ লাকি আক্তার, মোঃ সুমন মিয়া সহ অনেকেই। এলাকাবাসী আরও জানান, এই বিরোধ নিয়ে একাধিকবার গ্রাম্য শালিস বৈঠক বসে এবং সমাধানও দেওয়া হয়; কিন্তু আমিনুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা কোনো সমাধান মানতে রাজি হয়নি এবং বরাবরই এড়িয়ে গেছে।
এরই মধ্যে ঢাকায় প্রকাশিত জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সাংবাদিক এবং মানবাধিকার কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন। এলাকাবাসী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমিনুল দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে আসছে। জমি দখল, চাঁদাবাজি, নারীদের হয়রানি, ভয়ভীতি দেখানো—এসব কাজ তার কাছে নতুন নয়। ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও দোষীদের শাস্তি দাবি করেছেন। তারা বলেন, স্থানীয় প্রশাসন, জেলা পুলিশ সুপার এবং জেলার উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও বড় অরাজকতা সৃষ্টি হতে পারে। এলাকাবাসীর মধ্যে যারা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন তারা হলেন—মোঃ শাকিল মিয়া, মোঃ জাহাঙ্গীর মিয়া, মোঃ আলম মিয়া, মোঃ বিল্লাল মিয়া, মোঃ রিপন মিয়া, মোঃ খাইরুল মিয়া, মোঃ মিলন মিয়া, মোঃ জসিম মিয়া, মোঃ আবুল বাশার ভূঁইয়া, মোঃ মনজুরুল হক ভূঁইয়া, মোঃ আবু বক্কর, আব্দুল সাত্তার, মোঃ গোলাপ মিয়া, মোঃ সুজন মিয়া, মোঃ হাফিজ উদ্দিন, মোঃ রশিদ মিয়া, মোঃ নুরুল ইসলাম, মোছাঃ রেজিয়া খাতুন, মোছাঃ হাসনাহেনা, মোছাঃ নুরুন্নাহার, মোছাঃ শোখন তারা, রহিমা আক্তার, মোছাঃ কুলছুম আক্তার, মোছাঃ মাজেদা আক্তার, মোছাঃ তনুর আক্তারসহ আরও অনেকে। তাদের দাবি—এই ভূমিদস্যুর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনা হোক।