নামাজ, দোয়া আর কোরবানির আনন্দে একাকার পদুয়া,  ত্যাগের উৎসবে মুখরিত বাইতুল আমান ঈদগাহ

কুমিল্লা প্রতিনিধি :-

কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার ১৩ নম্বর আদ্রা ইউনিয়নের পশ্চিম পদুয়া গ্রামে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়েছে এক অনাবিল আনন্দ ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে। বাইতুল আমান জামে মসজিদ ও ঈদগাহে এলাকার শত শত মুসল্লি একত্রিত হয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেন। নামাজ থেকে কোরবানি  পুরো দিনজুড়ে গ্রামটি ছিল উৎসব, ত্যাগ ও সম্প্রীতির এক জীবন্ত চিত্র।

কবরস্থানে স্বজনদের জন্য দোয়া,

নামাজ শেষে মসজিদ ও ঈদগাহ-সংলগ্ন কবরস্থানে দাঁড়িয়ে এলাকাবাসী তাদের প্রয়াত আত্মীয়স্বজনের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়ায় অংশ নেন। চোখে অশ্রু আর ঠোঁটে মোনাজাতের ভাষা নিয়ে প্রিয়জনদের কবরের পাশে দাঁড়ানো মানুষগুলোর দৃশ্য উপস্থিত সকলকে গভীরভাবে আবেগাপ্লুত করে তোলে। এরপর একে অপরকে ঈদের শুভেচ্ছা ও কোলাকুলিতে মেতে ওঠেন সকলে। বয়োজ্যেষ্ঠ থেকে শুরু করে শিশু পর্যন্ত সকলের মুখে ছিল আনন্দের উজ্জ্বল হাসি।

ঐক্যবদ্ধ সমাজ গড়ার আহ্বান,

ঈদগাহে উপস্থিত স্থানীয় বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. আবুল বাসার এলাকাবাসীর উদ্দেশে বলেন, “ঈদুল আজহা আমাদের শুধু আনন্দের উৎসব নয়, এটি ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির এক অনন্য উপলক্ষ। আমরা যদি সত্যিকারের ত্যাগের শিক্ষা নিজেদের জীবনে প্রয়োগ করতে পারি, তাহলে আমাদের সমাজ থেকে হিংসা, বিদ্বেষ ও বিভেদ দূর হয়ে যাবে। প্রতিবেশীর সুখে সুখী হওয়া, বিপদে পাশে দাঁড়ানো এবং ছোট-বড় সকলকে সম্মান করাই হোক আমাদের ঈদের অঙ্গীকার। আসুন, আমরা সকলে মিলেমিশে একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তুলি  যেখানে কেউ একা নয়, সবাই একসঙ্গে।”

ইমামের প্রতি দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার,

এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব আলী আশ্রাফ আবেগের সঙ্গে বলেন, “আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তিনি শুধু নামাজ পড়ানো নয়, এলাকার ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন। কিন্তু আমরা এলাকাবাসী হিসেবে তাঁর প্রতি যে দায়িত্ব পালন করা উচিত, তা অনেক সময় যথাযথভাবে করতে পারছি না। আজ এই পবিত্র ঈদের দিনে আমি সকলের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি  আসুন, আমরা আমাদের ইমামের পাশে থাকি, তাঁর সম্মান ও অধিকার নিশ্চিত করি। একজন নিবেদিতপ্রাণ ইমামই পারেন একটি এলাকার মানুষকে সত্যিকারের আলোর পথে নিয়ে যেতে।”

কোরবানির পশু জবাইয়ে মুখরিত ঈদগাহ প্রাঙ্গণ,

ঈদের নামাজ ও দোয়া শেষে বাইতুল আমান ঈদগাহের মুসল্লিরা কোরবানির পশু জবাইয়ের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। ঈদগাহ প্রাঙ্গণজুড়ে তখন বিরাজ করছিল উৎসবমুখর এক প্রাণবন্ত পরিবেশ। মসজিদের ইমাম সাহেব অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে একে একে সকলের কোরবানির পশু জবাইয়ের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেন।

এরই মধ্যে সর্বপ্রথম জবাই হয় এলাকার বিশিষ্ট আলেম মাওলানা নোমান সাহেবের কোরবানির গরুটি। তাঁর গরু জবাইয়ের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় কোরবানির পর্ব। এরপর পর্যায়ক্রমে এলাকার অন্যান্য মুসল্লিদের কোরবানির পশু জবাই করা হতে থাকে।

উল্লেখ্য, স্থানীয় চিকিৎসক ডা. ফয়েজের কোরবানির গরুটি সর্বশেষে জবাই করা হবে বলে প্রতিবেদককে জানানো হয়েছে। জনবল-সংকটের কারণেই এই বিলম্ব বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত,

সামগ্রিকভাবে এবারের ঈদুল আজহায় পশ্চিম পদুয়া গ্রাম পরিণত হয়েছিল ত্যাগ, ভালোবাসা ও ঐক্যের এক অনন্য মিলনক্ষেত্রে। নামাজ, দোয়া, কোলাকুলি আর কোরবানির আনন্দে মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছিলেন গ্রামের সকল বয়সের মানুষ। এই দৃশ্য যেন প্রমাণ করে  ধর্মীয় উৎসবই পারে মানুষকে সত্যিকারের এক সুতোয় বেঁধে রাখতে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *