মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যিক নগরী নারায়ণগঞ্জকে একটি আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও যুগোপযোগী মেগাসিটি হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) প্রশাসক অ্যাডভোকেট মো. সাখাওয়াত হোসেন খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভা করেছে আন্তর্জাতিক অবকাঠামো নির্মাণ প্রতিষ্ঠান চায়না হারবার কনস্ট্রাকশন কোম্পানি (CHCC)।
রোববার (২১ জুন) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ উচ্চপর্যায়ের সভায় নগর উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জনসেবামূলক বিভিন্ন মেগা প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
চায়না হারবার কনস্ট্রাকশন কোম্পানির পক্ষে সভায় নেতৃত্ব দেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওয়াং ডা এবং উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহমুদ খান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী, এমআরকে এন্টারপ্রাইজের কর্ণধার মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম রাতুল, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নূর কুতুবুল আলম, ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আজগর হোসেনসহ সিটি কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং চীনা প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।
মতবিনিময় সভায় নাসিক প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান নগরবাসীর জীবনমান উন্নয়ন, নিরাপদ ও আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা, উন্নত চিকিৎসাসেবা, বিশুদ্ধ পানির নিশ্চয়তা এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে তাঁর সুদূরপ্রসারী নগর উন্নয়ন পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
সভায় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মেগা প্রকল্প নিয়ে বিশেষভাবে আলোচনা হয়। এর মধ্যে অন্যতম ছিল শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে এবং পরিবেশ সংরক্ষণে ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন অত্যাধুনিক ‘বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন’ প্রকল্প। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষণ কমবে, অন্যদিকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের মাধ্যমে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এ ছাড়া নগরবাসীর উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে এক হাজার শয্যাবিশিষ্ট অত্যাধুনিক হাসপাতাল, একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল কলেজ এবং নার্সিং ইনস্টিটিউট স্থাপনের বিষয়েও আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এসব প্রতিষ্ঠান চালু হলে চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি চিকিৎসা শিক্ষারও নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
নগরীর দীর্ঘদিনের যানজট নিরসন এবং পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এলআরটি (লাইট রেল ট্রানজিট) অথবা মনোরেল প্রকল্প নিয়েও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। একই সঙ্গে সমগ্র নগরজুড়ে বিশুদ্ধ পানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে একটি সমন্বিত পানি সরবরাহ প্রকল্প এবং নগরীর দুই প্রান্তের যোগাযোগ সহজ করতে আধুনিক সেতু নির্মাণের পরিকল্পনাও আলোচনায় গুরুত্ব পায়।
সভায় চায়না হারবার কনস্ট্রাকশন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওয়াং ডা এবং উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহমুদ খান নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের দূরদর্শী পরিকল্পনা ও জনকল্যাণমুখী উন্নয়ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তারা জানান, এসব বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি সম্ভাব্য বড় অঙ্কের বিনিয়োগ ও অর্থায়নে তাদের প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ সহযোগিতা দিতে আগ্রহী।
সভায় উভয় পক্ষ ভবিষ্যতে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রস্তাবিত মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে নারায়ণগঞ্জ একটি আধুনিক, টেকসই ও আন্তর্জাতিক মানের স্মার্ট সিটিতে রূপান্তরের পথে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করবে।