আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
জার্মানির মিউনিখে চলছে বিশ্বের অন্যতম বড় উৎসব অক্টোবারফেস্ট। উৎসবের জনপ্রিয় রাইড ‘টয়ফেলসরাড’ বা ‘ডেভিলস হুইল’-এ নারীদের স্কার্টের নিচে গোপনে ছবি ও ভিডিও ধারণ ঠেকাতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাইডে অংশ নেওয়া নারী দর্শনার্থীদের বিনামূল্যে সাইক্লিং শর্টস দেওয়া হচ্ছে।
রাইডটির অপারেটর এলিজাবেথ পোলাচি গত তিন বছর ধরে নারীদের বিনামূল্যে শর্টস দিয়ে আসছেন। চলতি বছরও তিনি ১০০টির বেশি শর্টস বিতরণ করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
‘ডেভিলস হুইল’ একটি বড় গোলাকার প্ল্যাটফর্ম, যা চলার সময় ধীরে ধীরে গতি বাড়ায়। একপর্যায়ে আরোহীরা ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যান। এতে নারীদের স্কার্ট কিংবা ঐতিহ্যবাহী জার্মান পোশাক ‘ডির্ন্ডল’ ওপরে উঠে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। এই সুযোগে ভিড়ের মধ্যে থাকা কেউ কেউ মোবাইল ফোন দিয়ে গোপনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এসব ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় সম্প্রচারমাধ্যম বিআরের এক অনুসন্ধানে জানা গেছে, একটি ভিডিও অনলাইনে প্রকাশ করে এক নারী প্রায় ৯ হাজার ইউরো আয় করেছেন।
জার্মান সংবাদমাধ্যম সুডুচে জেইতুংয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডেভিলস হুইলে নারীদের ধারণ করা অন্তত ৩২ হাজার ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে। কিছু ভিডিওতে নারীদের অন্তর্বাস দেখা গেছে। আবার কিছু ছবি ডিজিটালি সম্পাদনা করে নারীদের নগ্ন দেখানোর ঘটনাও ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
৮০ বছর বয়সী এলিজাবেথ পোলাচি বিবিসিকে বলেন, নারীরা যাতে রাইডে উঠে নিরাপদ ও স্বস্তিবোধ করেন, সেটিই তার প্রধান লক্ষ্য। তাদের সুরক্ষায় যা করা সম্ভব, তিনি তা করতে চান। শর্টস কিনে বিতরণ করা ব্যয়বহুল হলেও নিজের মানসিক শান্তির জন্য এটি মূল্যবান বলেও জানান তিনি।
ডেভিলস হুইলের তাঁবুতেও বিষয়টি নিয়ে সতর্কবার্তা টানানো হয়েছে। জার্মান ও ইংরেজি ভাষায় দেওয়া পোস্টারে বলা হয়েছে, কারও স্কার্টের নিচে গোপনে ছবি বা ভিডিও ধারণ করা অপরাধ।
বাভারিয়ান পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবারফেস্টে ‘আপস্কার্টিং’-এর অভিযোগে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এর আগের বছর গ্রেপ্তার করা হয় সাতজনকে। চলতি বছরও এক ৪৫ বছর বয়সী সুইস নাগরিককে এক জার্মান নারীর ডির্ন্ডলের নিচে মোবাইল ফোন দিয়ে ভিডিও ধারণের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
জার্মান আইনে কারও পোশাকের নিচে গোপনে ছবি বা ভিডিও ধারণ অপরাধ। এ অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
তবে ডিজিটাল সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের সহায়তাকারী জার্মান সংগঠন ‘হেট এইড’-এর প্রধান জোসেফিন ব্যালন মনে করেন, বিদ্যমান আইন সব পরিস্থিতিতে নারীদের যথেষ্ট সুরক্ষা দিতে পারে না। বিশেষ করে স্কার্ট হঠাৎ ওপরে উঠে যাওয়ার পর সেই দৃশ্যের ছবি ধারণের ক্ষেত্রে আইনের প্রয়োগ নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
এদিকে অক্টোবারফেস্টে ইনফ্লুয়েন্সার ও কনটেন্ট নির্মাতাদের ভিডিও ধারণেও কড়াকড়ি করেছে মিউনিখ কর্তৃপক্ষ। উৎসবস্থল থেকে লাইভস্ট্রিম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সেখানে ভিডিও ধারণ করতে হলে শহর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হচ্ছে। চলতি বছর পণ্য প্রচার ও স্পনসরশিপের মাধ্যমে আয় করা ইনফ্লুয়েন্সারদের জন্য শত শত অনুমতিপত্র দেওয়া হয়েছে।