নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ তারেক রহমান: ২১ দিনের মাথায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু

মোঃ ইসলাম উদ্দিন তালুকদার:

বাণিজ্য, বস্ত্র, পাট ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ড ছিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী অঙ্গীকার। তিনি এ বিষয়ে অত্যন্ত আন্তরিক ছিলেন। তাই সরকার গঠনের মাত্র ২১ দিনের মধ্যেই দেশের ১০টি প্রত্যন্ত অঞ্চলে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু করে তিনি প্রমাণ করেছেন নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কতটা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

মঙ্গলবার উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ জুনিয়র বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড মূলত গৃহবধূ ও নারীদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। এর উদ্দেশ্য হলো পারিবারিক ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করা। সন্তানদের প্রয়োজনীয়তা পূরণে তারা বেশি মায়েদের কাছে যায়। তাই পরিবারের প্রকৃত চাহিদা ও ব্যয়ের বিষয়টি নারীরাই সবচেয়ে ভালোভাবে বুঝতে পারেন। তাদের মাধ্যমেই পরিবারের ব্যয় সাশ্রয় ও সঞ্চয়ের সুযোগ তৈরি হবে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারগুলো দেশের সামগ্রিক উন্নয়নকে লক্ষ্য করেই করা হয়েছে। ইনশাআল্লাহ এসব অঙ্গীকার একে একে বাস্তবায়ন করা হবে, যাতে দেশের সাধারণ মানুষের জীবনমানের উন্নতি ঘটে।

খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, সুনামগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা, ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণের পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন বাড়াতে প্রয়োজনীয় খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বর্তমানে এ অঞ্চলে মূলত বোরো ধানই একমাত্র ফসল হিসেবে উৎপাদিত হয়। তবে ভবিষ্যতে ভিন্ন প্রজাতির আরও ফসল চাষের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে কৃষিজীবী পরিবারগুলো বাড়তি আয় করতে পারে।

জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়ার সভাপতিত্বে এবং উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের (ইউআরসি) ইনস্ট্রাক্টর হরিমোহন রায়ের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন এমপি নাছির চৌধুরী, এমপি কলিম উদ্দিন আহমেদ, এমপি কামরুজ্জামান কামরুল, এমপি এম কয়ছর আহমেদ, পুলিশ সুপার জাকির হোসেন এবং সিলেট সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালক সহিদুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সনজিব সরকার।

মন্ত্রী বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির পাশাপাশি খাল খনন প্রকল্পও হাতে নিয়েছে। সিলেট বিভাগে কৃষি উৎপাদন তুলনামূলকভাবে কম হওয়ার অন্যতম কারণ হলো শুকনো মৌসুমে সেচের অভাব এবং অনেক এলাকায় দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকা। সঠিক পানি নিষ্কাশন ও সেচের ব্যবস্থা করা গেলে এখানকার কৃষি জমি থেকে অতিরিক্ত ফসল উৎপাদন সম্ভব।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় থেকেই বিনিয়োগে স্থবিরতা দেখা দিয়েছিল। বিনিয়োগ না হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় না, আর কর্মসংস্থান না হলে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গিয়ে দারিদ্র্য বাড়ে। তাই বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সরকার কাজ করছে।

ইরান যুদ্ধের প্রভাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে পরিবহন ব্যয় বাড়তে পারে। তবে স্বল্প সময়ের মধ্যে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির আশঙ্কা নেই।

বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের উপকারভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নেই। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) জরিপ ও খানা জরিপের তথ্যের ভিত্তিতে একটি গ্রহণযোগ্য স্কোরিং পদ্ধতির মাধ্যমে উপকারভোগী নির্বাচন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী কয়েকজন নারীর হাতে প্রতীকীভাবে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন। এ প্রকল্পের আওতায় কুলঞ্জ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আকিল শাহ, উত্তর সুরিয়ারপাড় ও রাধানগর গ্রামের মোট ৬৯৭ জন নারী ফ্যামিলি কার্ড পাবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *