নেপাল-তিব্বতে পাহাড়ি ঢলে নিহত ৬২৬, নিখোঁজ আড়াই হাজার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

নেপালের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী জেলা রাসুয়া এবং সীমান্তের অপর পাশে চীনের তিব্বতের গিরং জেলায় ভয়াবহ পাহাড়ি ঢল বা হড়পা বানের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬২৬ জনে দাঁড়িয়েছে। উদ্ধার হওয়া মরদেহের মধ্যে ৬১৯টি নেপালে এবং সাতটি তিব্বতে পাওয়া গেছে।

মৃতের সংখ্যার পাশাপাশি বেড়েছে নিখোঁজের সংখ্যাও। কাঠমান্ডু ও বেইজিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, দুই এলাকায় এখন পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৫০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। এর মধ্যে নেপালে ১ হাজার ৯২৪ জন এবং গিরংয়ে ৫৫৮ জন নিখোঁজ হয়েছেন।

পানির স্রোতে ভেসে গিয়ে কিংবা বানের সঙ্গে আসা কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষের নিচে চাপা পড়ে তারা নিখোঁজ হয়েছেন বলে জানা গেছে। নিখোঁজদের মধ্যে নেপালি ও তিব্বতি নাগরিকদের পাশাপাশি ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ ৩৫টি দেশের প্রায় ৮০০ বিদেশি নাগরিক রয়েছেন।

যেভাবে ভয়াবহ বন্যার সূত্রপাত

গত বুধবার (২৬ আগস্ট) ভোতিকোশি নদী ও এর শাখা লেহন্দে নদীর একটি ব্যারিয়ার হ্রদ ভেঙে পড়ে। এতে নেপালের সীমান্তবর্তী রাসুয়া এবং চীনের তিব্বতের গিরং জেলায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়।

লাখ লাখ ঘনমিটার পানি নেমে আসার সঙ্গে কাদা, পাথর ও বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়ে বিস্তীর্ণ এলাকায়। এতে দুই দেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চল ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

নতুন ব্যারিয়ার হ্রদ নিয়ে শঙ্কা

এদিকে শুক্রবার চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেল সিসিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, তিব্বত-নেপাল সীমান্তের কাছে নতুন একটি ব্যারিয়ার হ্রদের সন্ধান পাওয়া গেছে। যেকোনো সময় সেটি ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

হ্রদটির পানির প্রভাবে ভোতিকোশি নদীর পানিও বাড়তে শুরু করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

নতুন এই ঝুঁকির খবর প্রকাশের পর শুক্রবার নেপাল ও তিব্বত—উভয় এলাকাতেই উদ্ধারকাজ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। পরে নেপালে আবারও উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়েছে। তবে চীনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি তিন দিন পর্যবেক্ষণের পর তিব্বতে উদ্ধার অভিযান পুনরায় শুরু করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *