মোঃআনজার শাহ
পদ, পরিচয় কিংবা সম্পদের হিসাব নয়; মানবিকতা, সততা ও ভালোবাসার মধ্য দিয়েই মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা তাজিরুল ইসলাম। নিজেকে নিরহংকার ও পরোপকারী মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা এবং সমাজ, রাষ্ট্র ও মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষাও তুলে ধরেছেন তিনি।
সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে মহান আল্লাহর কাছে এমন প্রার্থনা জানান তাজিরুল ইসলাম। তাঁর এই বক্তব্যে মানবিক মূল্যবোধ, বিনয়, পরোপকার ও মানুষের প্রতি গভীর ভালোবাসার এক জীবনদর্শন ফুটে উঠেছে।
পোস্টে তিনি লেখেন, “হে আরশের মালিক, আমার চাওয়া খুব বেশি নয় মানুষ যেন আমাকে আমার পদ, পরিচয় কিংবা সম্পদ দিয়ে নয়, আমার মানবিকতা, সততা ও ভালোবাসা দিয়ে মনে রাখে। আমাকে তুমি পরিপূর্ণ নিরহংকারী ও পরোপকারী মানুষ হিসেবে কবুল কর।
মৃত্যুর পরও মানুষের ভালোবাসায় স্মরণীয় হয়ে থাকার প্রত্যাশা জানিয়ে তিনি আরও লেখেন, “মৃত্যুর পর মানুষ যেন অন্তত এটুকু বলে, ‘মানুষটা নিজের জন্য খুব বেশি কিছু না করলেও, সমাজ, রাষ্ট্র ও মানুষের জন্য কিছু করার চেষ্টা করে গেছেন।
পোস্টের শেষাংশে সঠিক পথের দিশা কামনা করে তিনি লেখেন, “হে আসমান ও জমিনের মালিক, আমাকে পরিপূর্ণ হেদায়েত দান কর। আমিন।”
তাজিরুল ইসলামের এই উপলব্ধিতে উঠে এসেছে জীবনের এক গভীর সত্য মানুষের প্রকৃত পরিচয় পদমর্যাদা কিংবা বিত্তবৈভবে সীমাবদ্ধ নয়; বরং তার আচরণ, নৈতিকতা, মানবিকতা ও অন্যের প্রতি দায়িত্ববোধেই গড়ে ওঠে তার আসল পরিচয়।
নিজের বক্তব্যে মানুষের ভালোবাসাকে জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় তার মানবিকতা ও সামাজিকতা। আর সবচেয়ে বড় অর্জন হলো কারও দুঃসময়ে তার পাশে দাঁড়াতে পারা।
পদ-পদবি, সামাজিক অবস্থান ও সম্পদের নিক্তিতে মানুষকে মাপার প্রবণতার এই সময়ে তাজিরুল ইসলামের প্রার্থনা যেন মানবিকতা ও বিনয়ের গুরুত্বকে নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয়। দায়িত্বের আসনে থেকে মানুষের কল্যাণে কাজ করা, অসহায়ের পাশে দাঁড়ানো এবং ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য অবদান রাখার মানসিকতাই একজন মানুষকে প্রকৃত অর্থে সম্মানিত করে।
জীবনের সার্থকতা কেবল সাফল্য বা পদমর্যাদায় মাপা যায় না। মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানো, অন্যের কষ্ট অনুভব করা এবং সামর্থ্য অনুযায়ী কল্যাণকর কাজে অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়েই জীবন খুঁজে পায় তার প্রকৃত অর্থ।
তাজিরুল ইসলামের এই প্রার্থনা কেবল ব্যক্তিগত প্রত্যাশার প্রকাশ নয়; এটি মানবিক, পরোপকারী ও অহংকারমুক্ত জীবন গড়ার এক আন্তরিক আকাঙ্ক্ষা। এই প্রত্যয় বাস্তব জীবনে প্রতিফলিত হলে তা নিঃসন্দেহে অন্যদের জন্যও ইতিবাচক অনুপ্রেরণা হয়ে উঠবে।