পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব নগর গড়ার তাগিদ: রাজধানীর অভিজাত এলাকায় স্যানিটেশন ব্যবস্থায় জোর দিলেন মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের

মোঃআনজার শাহ

পরিকল্পিত, আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব নগর গঠনে প্রতিটি ভবনে সেপটিক ট্যাংক, সোক ওয়েল এবং পয়ঃশোধনাগার বা এসটিপি স্থাপন নিশ্চিত করার ওপর জোরালো গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে গুলশান, বারিধারা, বনানী ও নিকেতন সোসাইটির বাসিন্দাদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রাজধানীর গুলশান সোসাইটি পার্কে অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের এমপি। সভায় ভবনে আধুনিক ও কার্যকর স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সেপটিক ট্যাংক, সোক ওয়েল ও এসটিপি স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা, বাস্তবায়নে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং তা মোকাবিলায় করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের বলেন, টেকসই উন্নয়ন ও পরিকল্পিত নগরায়ণের স্বার্থে পরিবেশসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থার বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি। সরকারের লক্ষ্য হলো একটি পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যসম্মত ও আধুনিক নগরব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণ সমান গুরুত্ব পাবে।
সভায় গুলশান, বারিধারা, বনানী ও নিকেতন সোসাইটির প্রতিনিধিরা ভবনে পরিবেশসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থা বাস্তবায়ন, নগর ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ে তাঁদের বিভিন্ন মতামত ও সুপারিশ তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, নগরের প্রতিটি ভবনে যথাযথ স্যানিটেশন কাঠামো নিশ্চিত না হলে দীর্ঘমেয়াদে জলাবদ্ধতা, পরিবেশদূষণ ও জনস্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রাজউকের এই উদ্যোগ রাজধানীর অভিজাত আবাসিক এলাকাগুলোতে পরিবেশবান্ধব স্যানিটেশন সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠায় দৃষ্টান্তমূলক ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যসম্মত, টেকসই ও আধুনিক ঢাকা গড়ার পথে একটি বাস্তবমুখী অগ্রগতি সম্ভব হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো ভবননির্ভর বর্জ্য ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার সঠিক বাস্তবায়ন। সে লক্ষ্যেই রাজউকের এই আলোচনা ভবিষ্যৎ নগর উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত বার্তা বহন করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *