
মোঃ রাসেল:
বান্দরবানের লামা উপজেলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ টিটি এন্ড ডিসি কাটা পাহাড় সড়ক ভয়াবহ পাহাড় ধসের কারণে সম্পূর্ণভাবে অচল হয়ে পড়েছে। গত কয়েক দিনের টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার প্রভাবে পাহাড়ের বিশাল অংশ ধসে সড়কের ওপর এসে পড়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এতে স্থানীয় হাজারো মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে এবং জনমনে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পাহাড়ের বিশাল অংশের মাটি, পাথর ও গাছপালা সড়কের ওপর পড়ে থাকায় পুরো পথটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও কাদা ও ধসে পড়া মাটির স্তূপ এতটাই বড় যে ছোট যানবাহন তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষের হেঁটেও চলাচল করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই আরও ধস নামার আশঙ্কা থাকায় পথচারীরা আতঙ্ক নিয়ে চলাচল করছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, টিটি এন্ড ডিসি কাটা পাহাড় সড়কটি লামা উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ পথ। প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, কৃষক, রোগী এবং সাধারণ মানুষ যাতায়াত করেন। সড়কটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় ও কলেজে যেতে মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে। জরুরি চিকিৎসা নিতে যাওয়া রোগীদেরও দুর্ভোগের শেষ নেই। অনেককে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ধসে পড়া মাটি ও কাদা পেরিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
এদিকে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকায় স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে পারছেন না। ব্যবসায়ীরা সময়মতো পণ্য আনতে না পারায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। একই সঙ্গে জরুরি সেবাদানকারী যানবাহন চলাচলও বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলা কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, টানা বৃষ্টির কারণে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে পড়ায় যেকোনো সময় আরও বড় ধরনের পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটতে পারে। এতে শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থা নয়, আশপাশের বসতবাড়ি ও পথচারীদের জীবনও হুমকির মুখে রয়েছে। তাই দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল লামা পৌর প্রশাসক এবং উপজেলা প্রশাসনের (ইউএনও) জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা দ্রুত ভারী যন্ত্রপাতির মাধ্যমে ধসে পড়া মাটি অপসারণ, সড়ক সংস্কার এবং ভবিষ্যতে পাহাড় ধস রোধে স্থায়ী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “এই রাস্তাটি আমাদের এলাকার মানুষের একমাত্র ভরসা। কয়েক দিন ধরে আমরা চরম কষ্টে চলাচল করছি। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষ সবাই দুর্ভোগে পড়েছেন। দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার না করলে পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে এবং বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। প্রশাসনের কাছে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় প্রশাসন দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জরুরি ভিত্তিতে উদ্ধার ও সংস্কার কার্যক্রম শুরু করবে। পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে ভবিষ্যতে যাতে একই ধরনের দুর্ভোগের পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।