মোঃআনজার শাহ :-
“প্রগতি ও নিরাপত্তা, আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ” এই অনুপ্রেরণামূলক প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬। এই উপলক্ষে আজ ১৪ মে ২০২৬ তারিখে আয়োজিত বিশেষ সম্মেলনে দেশের ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাগণের সঙ্গে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীবর্গের এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে দেশের আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নে দৃঢ় বার্তা দিয়েছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের। তাঁর উপস্থিতি ও বলিষ্ঠ বক্তব্য সম্মেলনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।
পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ এর প্রতিপাদ্য,এ বছর পুলিশ সপ্তাহের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে “প্রগতি ও নিরাপত্তা, আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।” এই প্রতিপাদ্য শুধু একটি স্লোগান নয়, এটি বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর প্রতিটি সদস্যের দেশপ্রেম, নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধের প্রতিফলন। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে পুলিশের ভূমিকাকে জাতীয়ভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার লক্ষ্যেই এই প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে।
সম্মেলনের পটভূমি,পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে প্রতি বছর আয়োজিত এই বিশেষ সম্মেলনে সারা দেশের ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাগণ এবং সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীবর্গ একত্রিত হন। এই সম্মেলনে দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয় এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হয়। এ বছরের সম্মেলনটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশে সাইবার অপরাধ, মাদকের বিস্তার রোধ এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রম দমনে পুলিশ বাহিনী যে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে, তা এই সম্মেলনে বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে।
গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রীর বলিষ্ঠ বক্তব্য,সম্মেলনে বিশেষ অতিথির আসন অলংকৃত করে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ বাহিনীর অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ এই দেশের গর্ব। দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে দেশের কোটি কোটি মানুষের জানমাল রক্ষায় যে নিষ্ঠা ও দেশপ্রেমের পরিচয় পুলিশের প্রতিটি সদস্য দিয়ে আসছেন, তা সত্যিই জাতির জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। মন্ত্রী আরও বলেন, একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে পুলিশ বাহিনী ও সরকারের সকল মন্ত্রণালয়কে একযোগে কাজ করতে হবে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সবসময় পুলিশ বাহিনীর পাশে থেকে দেশ গড়ার কাজে সক্রিয় অংশীদার হিসেবে কাজ করে যাবে।
সম্মেলনে মূল আলোচনার বিষয়সমূহ,সম্মেলনে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সামগ্রিক পর্যালোচনাসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। দেশে ক্রমবর্ধমান সাইবার অপরাধ দমনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি, মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা, পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়ন ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, জনগণের সঙ্গে পুলিশের আস্থার সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা এবং নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে পুলিশের ভূমিকা আরও কার্যকর করার বিষয়ে গভীরভাবে আলোচনা হয়। ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাগণ তাঁদের নিজ নিজ কর্মএলাকার সাফল্য, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। মন্ত্রীবর্গ তাঁদের বক্তব্যে পুলিশ বাহিনীর কার্যক্রমে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
পুলিশ বাহিনীর প্রতি জাতির কৃতজ্ঞতা,সম্মেলনে উপস্থিত সকল মন্ত্রীবর্গ এক বাক্যে স্বীকার করেন যে, দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা যে আত্মত্যাগ ও নিষ্ঠার পরিচয় দিয়ে আসছেন, তা জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁরা পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্ব ও দক্ষতা আরও বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় সকল ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দেন।
সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ,পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এই সম্মেলন শেষে সরকার ও পুলিশ বাহিনীর মধ্যে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারের সকল মন্ত্রণালয় ও পুলিশ বাহিনী একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সম্মেলন শেষে দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, প্রগতি ও নিরাপত্তার পথে আমরা একসঙ্গে এগিয়ে যাব। আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।