পূর্ব ধোলাইপাড়ে ভবন নির্মাণে রাজউকের নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার:

রাজধানীর পূর্ব ধোলাইপাড় এলাকায় রাজউকের অনুমোদিত নকশা ও নির্মাণবিধি লঙ্ঘন করে ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) জোন-৭-এর ইমারত পরিদর্শক শারমিনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়দের কেউ কেউ। অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার নজরদারির অভাব কিংবা দায়িত্ব পালনে অবহেলার সুযোগে নিয়মবহির্ভূতভাবে ভবন নির্মাণের কাজ চলছে।

অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে রাজধানীর ধোলাইপাড় এলাকার ৪ নম্বর গলির ৬৬১ নম্বর পূর্ব ধোলাইপাড়ের শরিফ গংয়ের একটি ভবন। অভিযোগকারীদের দাবি, ভবনটি নির্মাণের ক্ষেত্রে রাজউকের নির্ধারিত নিয়ম ও অনুমোদিত নকশা অনুসরণ করা হচ্ছে না। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা ও সমালোচনা রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ভবন নির্মাণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসার কথা থাকলেও কার্যকর তদারকির অভাব দেখা যাচ্ছে। এমনকি ইমারত পরিদর্শক শারমিনের বিরুদ্ধে ঘুষের বিনিময়ে নিয়মবহির্ভূত নির্মাণকাজে ছাড় দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রামাণ্য নথি বা আর্থিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইমারত পরিদর্শক শারমিনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, ভবনটির মালিক শরিফের কাছে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আপনারা শুধু আমাকে কেন দেখছেন? আশপাশে তো একই রকম অনেক ভবন রয়েছে। সব ভবনের মালিক যেভাবে রাজউককে ম্যানেজ করেন, আমিও সেভাবে করেছি।’ তাঁর এ বক্তব্যে ভবন নির্মাণের অনুমোদন ও নিয়ম অনুসরণের বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে রাজউক জোন-৭-এর অথরাইজার ইলিয়াস বলেন, ‘আমি বিষয়টি দেখছি। আমার জানা মতে, রাজউকের নিয়মবহির্ভূত কোনো ভবন নির্মাণ হচ্ছে না।’

তবে ৬৬১ নম্বর পূর্ব ধোলাইপাড়ের ভবনটির অনুমোদিত নকশা, নির্মাণের অনুমতি এবং বাস্তব নির্মাণকাজ সরেজমিনে যাচাই করা হলে অভিযোগের প্রকৃত অবস্থা স্পষ্ট হবে। ভবন নির্মাণে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *