ফতুল্লায় পিতাকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় সমঝোতা না করায় পাল্টাপাল্টি মামলা

মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পিতাকে হত্যাচেষ্টার একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে থানায় সমঝোতার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর পাল্টাপাল্টি মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে। এতে করে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে জানা গেছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ফতুল্লার বাসিন্দা শের আলীকে তার বড় ছেলে মাসুদ গত ৩ মার্চ কাঠের ডাঁসা দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। এ ঘটনায় শের আলীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে এবং তার পায়ের হাড় ভেঙে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং ফতুল্লা থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযুক্ত মাসুদকে গ্রেফতার করে।

অভিযোগ রয়েছে, গ্রেফতারের পর বিষয়টি সমঝোতার চেষ্টা করেন ফতুল্লা থানার ইন্সপেক্টর তদন্ত মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। তিনি ঘটনাটিকে পারিবারিক বিরোধ আখ্যা দিয়ে উভয় পক্ষকে মীমাংসার প্রস্তাব দেন। তবে গুরুতর আহত শের আলী সমঝোতায় রাজি না হয়ে আইনি বিচার দাবি করেন।

এরপরই পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের। তাদের দাবি, সমঝোতায় রাজি না হওয়ায় থানার পক্ষ থেকে পাল্টা মামলা নেওয়া হয়, যেখানে শের আলীর ছোট ছেলে রিপন, দুই মেয়ে বানেছা ও আনোয়ারা এবং ছোট ভাই হালিমকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় তারা আতঙ্কিত হয়ে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

শের আলীর অভিযোগ, তার বড় ছেলে মাসুদ দীর্ঘদিন ধরে তার কাছ থেকে টাকা দাবি করে আসছিল এবং টাকা না দিলে প্রায়ই নির্যাতন করত। পূর্বেও এ নিয়ে আদালতে একটি মামলা চলমান রয়েছে। সর্বশেষ হামলার ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার পর তিনি ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করে থানায় যান।

অন্যদিকে, শের আলীর ছোট ছেলে রিপন অভিযোগ করেন, তিনি কোনো ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। তার দাবি, থানার ইন্সপেক্টর তদন্তের প্রস্তাবে তার বাবা সম্মতি না দেওয়ায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ হয়রানিমূলক।

এ বিষয়ে ফতুল্লা থানার ইন্সপেক্টর তদন্ত মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন জানান, ঘটনাটি পারিবারিক হওয়ায় উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে সমঝোতার চেষ্টা করা হয়েছিল। সমঝোতা না হওয়ায় আইন অনুযায়ী উভয় পক্ষের অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

এদিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং ভুক্তভোগী পরিবার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *