ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে হামলার আশঙ্কায় আতঙ্কে ব্রিটিশ গ্রামের বাসিন্দারা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত যুক্তরাজ্যের একটি বিমানঘাঁটিকে ঘিরে সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডের একটি শান্ত গ্রামে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় রোববার ওই এলাকায় বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের সদস্যদের মোতায়েন করা হয়।

ভোরে রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (আরএএফ) ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটির কাছের উইলফোর্ড গ্রামের ৮৫টি পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। গ্রামটি বিমানঘাঁটি থেকে প্রায় এক মাইল বা ১ দশমিক ৬ কিলোমিটার দূরে। কর্তৃপক্ষ সন্দেহজনক কয়েকটি যানবাহন দেখতে পাওয়ার পর বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, বিমানঘাঁটির কাছে পাওয়া হুমকির ধরন বা এর উৎস সম্পর্কে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হতে পারেনি। তবে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতি নেওয়ার’ সন্দেহে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

টেলিভিশনে প্রচারিত আকাশ থেকে ধারণ করা ভিডিওতে সন্দেহজনক ভ্যানগুলোর আশপাশে একটি বোমা নিষ্ক্রিয়কারী রোবটকে চলাচল করতে দেখা যায়। এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, তিনি জরুরি সেবায় খবর দেওয়ার পর গ্রামের কাছের একটি সড়কে তিনটি ভ্যান দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। সেখানে হুড ও বালাক্লাভা পরা কয়েকজন ব্যক্তিও ছিলেন বলে জানান তিনি।

পরে গ্রামবাসীদের কাছের শহর সিরেন্সেস্টারের একটি বিনোদনকেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়। সেখানে স্টেফানি নামের এক বাসিন্দা তার কুকুরছানা ও দুটি বিড়াল নিয়ে রাত কাটানোর প্রস্তুতি নেন। ওই সময়ও পুলিশ এলাকাটি ঘিরে রেখেছিল।

স্টেফানি এএফপিকে বলেন, পরিস্থিতির কারণে তিনি ‘একেবারে ক্লান্ত’। তিনি জানান, ঘটনাটির ভয়াবহতা এখনো পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারেননি। তার ভাষায়, এটি একটি সুন্দর ও ছোট গ্রাম এবং সেখানে এমন ঘটনা ঘটে যাওয়া দুঃখজনক।

সিরেন্সেস্টারের ২০ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী জর্জ কারিও ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, কটসওল্ডসের এই এলাকাটি সাধারণত খুবই শান্ত ও মনোরম। বিমানঘাঁটির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে সেখানে বসবাস করতে হলে বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি ভয় পেতেন বলেও জানান।

ইরান অভিযানে ব্যবহৃত হচ্ছে ফেয়ারফোর্ড

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মার্চে ব্রিটেন যুক্তরাষ্ট্রকে ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটি থেকে ইরানের বিরুদ্ধে ‘নির্দিষ্ট প্রতিরক্ষামূলক অভিযান’ পরিচালনা এবং ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের অনুমতি দেয়। এরপর থেকে ওই ঘাঁটি থেকে মার্কিন বোমারু বিমানসহ বিভিন্ন সামরিক বিমান উড্ডয়ন ও অবতরণ করতে দেখা গেছে।

উপসাগরীয় যুদ্ধ এবং ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের সময়ও ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটি মার্কিন সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত হয়েছিল।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতি বছর বড় একটি বিমান প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হওয়া ছাড়া বিমানঘাঁটিটি সাধারণত শান্তই থাকে। ওই বিমান প্রদর্শনীতে বিভিন্ন দেশ থেকে দর্শনার্থীরা অংশ নেন।

স্থানীয় কাউন্সিলর ট্রিস্টান উইলকিনসন বলেন, সাধারণ সময়ে আরএএফ ফেয়ারফোর্ড অত্যন্ত শান্ত থাকে। তবে বর্তমানে ‘এপিক ফিউরি’ অভিযান চলায় পরিস্থিতি বদলে গেছে। তার মতে, গত কয়েক মাসে স্থানীয় কমিউনিটি ও কর্তৃপক্ষ বিমানঘাঁটির চারপাশে নিরাপত্তা ও সতর্কতা বাড়িয়েছে।

এর আগে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইরান ও রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের ভূখণ্ডে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় সহযোগীদের ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছে।

এদিকে ২১ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ভিক্টর কম্পটন বলেন, বিমানঘাঁটির চারপাশে সাম্প্রতিক তৎপরতা ও চলমান পরিস্থিতির কারণে এমন ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তার ভাষায়, যুদ্ধের প্রভাব বিশ্বের তুলনামূলক নিরাপদ এলাকাগুলোতেও পৌঁছে যেতে পারে। ঘটনাটিকে তিনি ‘বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়ার মতো’ বলে মন্তব্য করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *