স্টাফ রিপোর্টার:-
কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার ৬ নম্বর চিতড্ডা ইউনিয়নে ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভন দেখিয়ে কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগকে ঘিরে সৃষ্ট আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে নতুন বক্তব্য দিয়েছেন শিবানি দে। তিনি দাবি করেছেন, কাজল তাঁকে ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভন দেখিয়ে কোনো কুপ্রস্তাব দেননি। একই সঙ্গে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নেতৃত্বের সূত্রে কাজলের সঙ্গে তাঁর দেড় থেকে দুই বছরের পরিচয় ও সম্পর্ক রয়েছে বলে জানান তিনি।
এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে দেওয়া ভিডিও বার্তায় শিবানি দে এসব কথা বলেন। তাঁর বক্তব্যে অভিযোগের নতুন একটি দিক সামনে আসায় ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।
তাপস দত্ত শিবানি দে-কে নির্ভয়ে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নারীরা সম্মানের পাত্র, আর মাতৃত্বের কারণে তাঁদের মর্যাদা আরও গুরুত্বপূর্ণ। তাই ভয়, প্রলোভন কিংবা সামাজিক চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে সত্য ঘটনা তুলে ধরতে হবে। তাঁর মতে, প্রকৃত ঘটনা জানা গেলে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে কাউকে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা কাম্য নয়। এমন কর্মকাণ্ডে নারীসমাজের সম্মান ক্ষুণ্ন হতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
জবাবে শিবানি দে স্পষ্ট করে বলেন, কাজল তাঁকে ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভন দেখিয়ে কুপ্রস্তাব দেননি। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নেতৃত্বের কারণে কাজলের সঙ্গে তাঁর দেড় থেকে দুই বছরের সম্পর্ক রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে সাবেক ইউপি সদস্য মোস্তফা কামাল রাজু জানান, ৫ আগস্টের পর এলাকার বিভিন্ন বিরোধ ও সালিসি কার্যক্রমে তাঁকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। শিবানি দে ও তাঁর পরিবারের বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে নানা অভিযোগ শুনেছেন বলেও দাবি করেন তিনি। তবে কাজলের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন কিংবা নারীঘটিত কোনো অপরাধের অভিযোগ অতীতে ছিল না বলে জানান এই সাবেক জনপ্রতিনিধি। তাঁর ভাষ্য, সাম্প্রতিক অভিযোগটি নতুন করে সামনে এসেছে।
মোস্তফা কামাল রাজু ও স্থানীয় কয়েকজনের বক্তব্যে শিবানি দে-র পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উঠে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে চুরি, মাদকসংশ্লিষ্টতা এবং স্থানীয় পরিবেশ অস্থিতিশীল করার অভিযোগ। রাজুর দাবি, স্থানীয়ভাবে মাদকসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের একটি তালিকা থানায় দেওয়া হয়েছে, যাতে শিবানি দে-র ছেলের নামও রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী দাবি করেন, প্রায় দেড় থেকে দুই বছর আগে শিবানি দে মুসলিম পরিচয়ে আদালতে গিয়ে একটি মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছিলেন।
ঘটনার প্রেক্ষাপটে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে জানা গেছে, মন্ত্রীর নির্দেশে উপজেলা পর্যায়ের সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দও বিস্তারিত জানতে এলাকায় উপস্থিত হয়েছেন। আলোচনায় উপস্থিত স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও সমাজের প্রতিনিধিরা সবাইকে সংযত থাকার আহ্বান জানান। তাঁরা বলেন, কোনো পক্ষের প্রতি অন্ধ সমর্থন বা বিরূপ মনোভাব না রেখে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করতে হবে। একজন প্রতিনিধি বলেন, প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন এবং একটি সুষ্ঠু সমাধানে পৌঁছানোই তাঁদের মূল লক্ষ্য। এ ক্ষেত্রে সাংবাদিকদেরও নিরপেক্ষভাবে সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানান তিনি।