বান্দরবান প্রতিনিধি:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির পক্ষ থেকে ৩৬ জন প্রার্থীকে মনোনীত করা হয়েছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) আনুষ্ঠানিকভাবে এই তালিকা প্রকাশ করা হয়। ঘোষিত তালিকায় স্থান পেয়েছেন বান্দরবানের অ্যাডভোকেট মাধবী মার্মা, যাকে ঘিরে ইতোমধ্যে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
দলীয় তালিকা অনুযায়ী, অ্যাডভোকেট মাধবী মার্মা বর্তমানে ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া তিনি পূর্বে “ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের আমলে” সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন বলে জানা যায়।
তবে বান্দরবান জেলা বিএনপির একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, অ্যাডভোকেট মাধবী মার্মা অতীতে বা বর্তমানে বিএনপির কোনো পদ-পদবীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস ও দলীয় কর্মকাণ্ডে তার কোনো সরাসরি সম্পৃক্ততার তথ্যও পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হয়েছে।
তার মনোনয়নকে কেন্দ্র করে বান্দরবান জেলায় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে অনেকেই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং এটিকে ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা বিএনপির এক নেতা বলেন, ত্যাগী নেতাদের উপেক্ষা করে “হাইব্রিড” বা নতুনভাবে যুক্ত ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তার ভাষায়, যাকে মনোনীত করা হয়েছে তিনি দীর্ঘ ১৭ বছর কোথায় ছিলেন এবং বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামে তার ভূমিকা কী ছিল—এ প্রশ্ন এখন তৃণমূল পর্যায়ে উঠছে।
আরেকজন জেলা বিএনপি নেতা মন্তব্য করেন, পার্বত্য তিনটি সাধারণ আসনের মধ্যে বর্তমানে দুইটি আসনের প্রতিনিধি পাহাড়ি সম্প্রদায়ের। এ অবস্থায় পাহাড়ি-বাঙালি ভারসাম্য এবং বাঙালি জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে সংরক্ষিত নারী আসনে একজন বাঙালি নেত্রীর প্রয়োজন ছিল বলেও তারা মনে করেন।
এদিকে অ্যাডভোকেট মাধবী মার্মার মনোনয়নকে ঘিরে বান্দরবানে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মনোনয়ন ভবিষ্যতে জেলা বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।