ফ্ল্যাট থেকে নারীসহ সাবেক ওসি মাহবুব আলম আটক

রাজশাহী

রাজশাহী মহানগরীর পদ্মা আবাসিক এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে এক নারীর সঙ্গে অবস্থানরত পুলিশ পরিদর্শক মোঃ মাহবুব হোসেনকে আটক করেছে চন্দ্রিমা থানা পুলিশ। এ ঘটনায় মাহবুব হোসেনের ষষ্ঠ স্ত্রী মোছাঃ আন্নি আক্তার থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর চন্দ্রিমা থানাধীন পদ্মা আবাসিক এলাকার ৬ নম্বর সড়কের একটি ভবনের ফ্ল্যাট থেকে মাহবুব হোসেন (৪৬) ও মোছাঃ সানজিদা আলম মৌ (২৫) নামের ওই নারীকে আটক করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মাহবুব হোসেন বর্তমানে সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশ লাইন্সের ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে কর্মরত।

পুলিশ সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে ছুটি না নিয়ে সিরাজগঞ্জ থেকে রাজশাহীতে এসে ওই ফ্ল্যাটে অবস্থান করেন মাহবুব হোসেন—এমন অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। এর আগে শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে আন্নি আক্তার ওই ফ্ল্যাটে গিয়ে ভেতরে থাকা ব্যক্তিদের বিষয়ে জানতে চান। দরজায় ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন।

পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও দরজা খোলা হয়নি। একপর্যায়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গিয়ে দরজা খুলে দিলে ভেতর থেকে মাহবুব হোসেন ও সানজিদা আলম মৌকে বের করে আনা হয়। পরে তাদের থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে মাহবুব হোসেন সানজিদা আলম মৌকে তাঁর স্ত্রী বলে দাবি করেন। তবে এ দাবির সমর্থনে তিনি কোনো কাবিননামা দেখাতে পারেননি বলে পুলিশ জানিয়েছে। অন্যদিকে, আন্নি আক্তারকে চার দিন আগে তালাক দেওয়া হয়েছে বলে মাহবুব হোসেন দাবি করেন। এসব বিষয় উল্লেখ করে আন্নি আক্তার থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

মাহবুব হোসেন ২০২৪ সালে চন্দ্রিমা থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময় এক ব্যক্তির কাছ থেকে খাম নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। পরে তিনি নওগাঁ জেলা পুলিশে কর্মরত ছিলেন। সেখানে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছিল বলেও জানা গেছে। এরপর তাঁকে সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত করা হয়।

চন্দ্রিমা থানা পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে। অভিযোগের সত্যতা এবং এ ঘটনায় আইনগত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা তদন্তের পর নির্ধারণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *