কামরুল ইসলাম:
চট্টগ্রাম বিভাগের কক্সবাজার জেলার চুনতি রেঞ্জের আওতাধীন বড়ইতলি বিট কর্মকর্তা আনোয়ার বলেন, ৫০ বছরের পুরনো গর্জন বাগান গাছপ্রেমিকদের নতুন আকর্ষণীয় স্পট হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এই গর্জন বাগান দেখতে দেশি-বিদেশি গাছপ্রেমিকরা নিয়মিত আসেন বলে তিনি জানান।
তিনি বলেন, চুনতি রেঞ্জের আওতায় গর্জন বাগানটি প্রায় ৫০ বছরের পুরনো। কক্সবাজার দক্ষিণ অঞ্চলে বড়ইতলি বিটের এই গর্জন বাগানটি প্রকৃতির এক অনন্য সৌন্দর্যের লীলাভূমি। বাগানটি পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত প্রিয় এবং বিনোদন ও গবেষণার জন্য রয়েছে অফুরন্ত সুযোগ। বাগানের ভেতরে সারি সারিভাবে দাঁড়িয়ে আছে সুউচ্চ গর্জন গাছ। পাহাড় বেয়ে ওপরে উঠলে পুরো বাগানের বিশালতা চোখে পড়ে।
আরও জানা যায়, কক্সবাজার শহর থেকে চট্টগ্রামমুখী মহাসড়ক দিয়ে প্রায় ৫৫ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে এই বাগানের অবস্থান। প্রায় ১০৫৪ একর আয়তনের এ বাগানে রয়েছে শত শত গর্জন গাছ, যেগুলোর উচ্চতা ৭০ থেকে ৮০ ফুট এবং প্রস্থ ১০ থেকে ১২ ফুট পর্যন্ত।
এছাড়াও বাগানটিতে রয়েছে সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য। এখানে হাতি, রেসাস বানর, শূকর, ভোঁদড়, নীলদাড়ি সুইচোরা, বড় কাঠ কুড়ালি, কাকড়াভুকসহ নানা প্রজাতির বন্যপ্রাণী দেখা যায়। পাশাপাশি রয়েছে ১৩ প্রজাতির উভচর, ৫৬ প্রজাতির সরীসৃপ, প্রায় ২৬০ প্রজাতির পাখি ও অন্যান্য প্রাণী।
বাগানটি গাছপ্রেমিকদের আরও আকৃষ্ট করতে নিরাপত্তা ও বিশ্রামের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অনেকে এই বাগানকে ‘সুন্দর্যের রানী’ বলেও অভিহিত করেন।
বন বিভাগের ফরেস্ট গার্ডরা জানান, গর্জন বাগানসহ আশপাশের পাহাড়ি এলাকা দেখতে প্রতিনিয়ত দেশি-বিদেশি পর্যটক ও গাছপ্রেমিকরা এখানে আসেন। বাগানের ভেতরে প্রবেশ করলে পাখির কলরব ও বন্যপ্রাণীর উপস্থিতি ভ্রমণকে করে তোলে আরও আকর্ষণীয়।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে বনসম্পদ রক্ষা ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড়ইতলি বিট কর্মকর্তা আনোয়ারের নেতৃত্বে দুইজন ফরেস্ট গার্ড দিনরাত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
স্থানীয় জনসাধারণ বলেন, ৫০ বছরের পুরনো এই গর্জন বাগান রক্ষায় বন বিভাগের পাশাপাশি স্থানীয়রাও সহযোগিতা করছেন। কাঠচোরদের হাত থেকে বাগান রক্ষা এবং দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবাই একযোগে কাজ করছেন।
বড়ইতলির স্থানীয় দেলোয়ার হোসেন বলেন, “প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে ভরা এই গর্জন বাগান গাছপ্রেমিকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। বাগান রক্ষা ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় বিট কর্মকর্তা ও বনকর্মীদের প্রচেষ্টা সত্যিই প্রশংসনীয়।”
কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের চুনতি রেঞ্জের বড়ইতলি বিট কর্মকর্তা আনোয়ার বলেন, “এই গর্জন বাগান একটি ঐতিহ্যবাহী সম্পদ। প্রায় ৫০ বছরের পুরনো এ বাগানকে ঘিরে এখানে একটি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা সম্ভব। দেশি-বিদেশি গাছপ্রেমিকরা এখানে নিয়মিত আসছেন। আমরা এই বাগানের ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরতে কাজ করছি এবং নিরাপত্তা জোরদার করেছি।”
তিনি আরও বলেন, কিছু অসাধু চক্র এই গর্জন বাগান ধ্বংসের ষড়যন্ত্র করছে। তবে যতদিন তিনি দায়িত্বে আছেন, ততদিন কোনোভাবেই এই বাগানের ক্ষতি হতে দেবেন না। বাগান রক্ষায় স্থানীয় জনগণও পাশে রয়েছে।
স্থানীয় গাছপ্রেমিক আমির হোসেন বলেন, “এই বাগানের সৌন্দর্য মনকে নাড়া দেয়। বাগান রক্ষা ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিট কর্মকর্তা আনোয়ার ও বনকর্মীরা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন, যা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।”
সবমিলিয়ে, বড়ইতলি বিটের এই গর্জন বাগান বর্তমানে প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য একটি আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সরকারি উদ্যোগে এটিকে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন করা হলে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।