লামা প্রতিনিধি:
বান্দরবানের লামা মাছবাজার মোড়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর অধীনে নির্মাণাধীন একটি সড়কের কাজে চরম অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন মহলের দাবি, মাত্র দুই বছর আগে নির্মিত একই সড়ক নিম্নমানের কাজের কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই নষ্ট হয়ে যায়। আর এবারও একইভাবে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করে পুনরায় কাজ করা হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ‘সিলেকশন বালু’র পরিবর্তে লোকাল বালু ব্যবহার করে ঢালাই কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে। এতে সড়কের স্থায়িত্ব ও মান নিয়ে নতুন করে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, নির্মাণকাজ চললেও সেখানে এলজিইডির কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা তদারকি কর্মী উপস্থিত নেই। কাজের মান যাচাই বা তদারকির অভাব প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে স্থানীয়দের মাঝে।
উপজেলা প্রকৌশলী আবু হানিফের বক্তব্য জানতে একাধিকবার তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এমনকি তার কার্যালয়েও গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার এই অনুপস্থিতি এবং যোগাযোগহীনতা স্থানীয়দের সন্দেহ আরও বাড়িয়েছে।
পার্শ্ববর্তী দোকানদাররা জানান, “দুই বছর আগেও একইভাবে নিম্নমানের কাজ করা হয়েছিল। তখনও বিটুমিন কম ব্যবহার করা হয়েছিল, যার ফলে কয়েক মাসের মধ্যেই সড়কটি ভেঙে যায়। এখন আবারও আমাদের চোখের সামনে একই অনিয়ম হচ্ছে। তদারকি না থাকায় ঠিকাদাররা যা ইচ্ছা তাই করছে।”
সচেতন মহলের মতে, একই সড়কে অল্প সময়ের ব্যবধানে বারবার সংস্কার কাজের নামে বাজেট বরাদ্দ দেওয়া এলজিইডির কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের অর্থ লুটপাটের কৌশল হতে পারে। প্রশাসনের চোখের সামনে এমন ‘কমিশন বাণিজ্য’ চললেও কার্যকর পদক্ষেপের অভাব উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন তারা।
এ বিষয়ে জেলা এলজিইডির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, অবিলম্বে কাজ বন্ধ করে ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রীর মান যাচাই করতে হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
স্থানীয়দের হুঁশিয়ারি, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে তারা আন্দোলনসহ কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন।