বরুড়ায় প্রধানমন্ত্রীর পথসভা সফল করতে কায়সার আলম সেলিমের নেতৃত্বে বিএনপির বৃহৎ প্রস্তুতি

মোঃ আনজার শাহ:

দীর্ঘ ১৭ বছরের বুকভরা অপেক্ষা আর নিরন্তর সংগ্রামের পথ পেরিয়ে অবশেষে বরুড়ার মাটিতে আসছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান। আগামী শনিবার (১৬ মে ২০২৬) সকাল ১০টায় কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার লক্ষীপুর ইউনিয়নের “লক্ষীপুর বালু মাঠে” অনুষ্ঠিত হবে এক ঐতিহাসিক পথসভা। এই সংবাদে বরুড়াজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে অভূতপূর্ব আনন্দের জোয়ার। ঘরে ঘরে উৎসবের আমেজ, নেতাকর্মীদের চোখে-মুখে উত্তেজনা আর প্রত্যাশার ঝিলিক—বরুড়া যেন আজ নতুন করে জেগে উঠেছে।

এই মহাযজ্ঞকে সফল, সুশৃঙ্খল ও চিরস্মরণীয় করে তুলতে বরুড়া উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক বৃহৎ যৌথ প্রস্তুতি সভা। সভায় সভাপতিত্ব করেন বরুড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও এলাকার পরীক্ষিত সংগ্রামী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব কায়সার আলম সেলিম। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনসমূহের শত শত উৎসাহী নেতাকর্মী স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই সভায় অংশগ্রহণ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি ও সফর পরিকল্পনা সম্পর্কে সভায় বিস্তারিতভাবে জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকালে ঢাকা থেকে রওনা দিয়ে সরাসরি বরুড়ার লক্ষীপুর বালু মাঠে উপস্থিত হবেন এবং সেখানে প্রায় ২০ মিনিট গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করবেন। পথসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখবেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন (এমপি)।

পথসভা সমাপ্তির পর প্রধানমন্ত্রী চাঁদপুরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ খাল খনন প্রকল্পের উদ্বোধন এবং ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমে অংশ নেবেন। এরপর চাঁদপুর সার্কিট হাউসে জেলা বিএনপির সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় যোগ দেবেন।

গৃহায়ন মন্ত্রীর নিরলস প্রচেষ্টায় বরুড়ায় প্রধানমন্ত্রীর আগমন প্রসঙ্গে কায়সার আলম সেলিম সভায় গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জনাব জাকারিয়া তাহের সুমনের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জানান, মন্ত্রীর একান্ত আগ্রহ, অক্লান্ত পরিশ্রম ও নিরলস প্রচেষ্টার ফলেই প্রধানমন্ত্রী বরুড়ার এই পথসভায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

গত ১০ মে ২০২৬ তারিখে মন্ত্রী পরপর তিনবার ফোনে যোগাযোগ করে প্রধানমন্ত্রীর চূড়ান্ত সম্মতির সুখবরটি পৌঁছে দেন। সেই রাতেই কুমিল্লা থেকে সরাসরি লক্ষীপুর বালু মাঠ সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয় এবং সমস্ত প্রস্তুতি চূড়ান্ত রূপ লাভ করে।

কায়সার আলম সেলিমের আবেগময় ও দিকনির্দেশনামূলক ভাষণে তিনি বলেন, “এই পথসভা কোনো একজন ব্যক্তির একার অর্জন নয়। এটি বরুড়ার প্রতিটি নেতাকর্মীর রক্ত, ঘাম আর অশ্রুর বিনিময়ে অর্জিত এক গৌরবময় মুহূর্ত। যে সময়ে প্রকাশ্যে সভা করা ছিল জীবনের ঝুঁকি, সেই ঘোর দুঃসময়েও বরুড়ার সাহসী নেতাকর্মীরা বাগানে, মাঠে, মানুষের ঘরে ঘরে একের পর এক ওয়ার্ড মিটিং করে দলকে জীবন্ত ও সচল রেখেছেন। আজ সেই অকুতোভয় ত্যাগের স্বীকৃতি মিলছে।”

তিনি আরও বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া যখন কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে বন্দি ছিলেন, তখনও আমাদের আন্দোলনের প্রাণশক্তি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রবাসের মাটিতে বসেও তিনি প্রতিটি মুহূর্তে আমাদের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। আর বরুড়ার নেতাকর্মীরা সীমাহীন প্রতিকূলতার মাঝেও সেই আদর্শ বুকে ধারণ করে অবিচল থেকেছেন। তিনি আমাদের জাতীয়তাবাদী রাজনীতির আলোকবর্তিকা—আমাদের সকলের হৃদয়ের গভীরতম স্পন্দন।”

কায়সার আলম সেলিম উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে বলেন, “যে প্রধানমন্ত্রীকে এতদিন শুধু অনলাইনের পর্দায় দেখেছেন, আগামী ১৬ মে তাঁকে সামনে থেকে দেখার বিরল সুযোগ পাবেন বরুড়ার মানুষ। এই সুযোগ জীবনে একবারই আসে। তাই দলমত নির্বিশেষে কেউ যেন ঘরে বসে না থাকেন।”

মাঠ প্রস্তুতি ও বিস্তারিত দিকনির্দেশনা প্রসঙ্গে সভায় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে সুনির্দিষ্ট ও সুশৃঙ্খল কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। সকাল ৯টার মধ্যে সকলকে সভাস্থলে উপস্থিত থাকার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়। সুশৃঙ্খল যাতায়াত নিশ্চিত করতে প্রতিটি ইউনিয়নের জন্য আলাদাভাবে চারটি করে বাসের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

শিলমুড়ি দক্ষিণ, শিলমুড়ি উত্তর ও ভবানীপুর ইউনিয়নের কুমিল্লা-চাঁদপুর মহাসড়কের মগবাড়ি থেকে চেঙ্গাহাটা পর্যন্ত ছাত্রদল ও যুবদলের মোটরসাইকেল বহর সুশৃঙ্খলভাবে অবস্থান নেবে এবং নির্ধারিত সময়ে সভাস্থলে যোগ দেবে। এ ছাড়া ওলামা দল, শ্রমিক দলসহ সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনকে নিজ নিজ কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী সুশৃঙ্খলভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।

ইতিহাসের পাতায় চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে বরুড়া। সভায় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, যুবদল, ছাত্রদল, ওলামা দল ও শ্রমিক দলসহ সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বক্তারা দৃঢ়কণ্ঠে ঘোষণা করেন, আগামী ১৬ মে’র এই পথসভা শুধু বরুড়ার নয়, গোটা কুমিল্লার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় মাইলফলক হয়ে থাকবে। এটি হবে বরুড়াবাসীর দীর্ঘ প্রতীক্ষা, অফুরন্ত ত্যাগ আর অবিচল আস্থার এক গৌরবময় পরিণতি, যা আগামী প্রজন্ম বুকে ধারণ করবে যুগের পর যুগ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *