মোঃ আনজার শাহ
কুমিল্লার বরুড়ায় প্রায় ৫০০ চক্ষু রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন এমন ৭০ জন রোগীর জন্য কুমিল্লার আলেখারচর চক্ষু হাসপাতালে অপারেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত উপজেলার চিতড্ডা ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসায় এ বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও রোগী বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। চিতড্ডা, ঝলম ও আশপাশের এলাকার বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ এতে চিকিৎসাসেবা নেন। আটজন চিকিৎসকের একটি বিশেষজ্ঞ দল সেবা দেয়।
কর্মসূচি পরিদর্শন করেন ঢাকাস্থ বরুড়া জনকল্যাণ সমিতির সভাপতি ও তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. শাহ আলম। তিনি বলেন, বরুড়া জনকল্যাণ সমিতি দীর্ঘদিন ধরে চক্ষু চিকিৎসা, শিক্ষার্থীদের মেধাবৃত্তি, আর্থিক সহায়তা, বন্যার্তদের সহায়তা ও শীতবস্ত্র বিতরণসহ নানা মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ভবিষ্যতেও বরুড়ার মানুষের কল্যাণে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
চিকিৎসাসেবা নিতে আসা মুরিয়াপাড়া গ্রামের নাজমা আক্তার চোখ দিয়ে পানি পড়া ও কম দেখার সমস্যায় ভুগছিলেন। বিনামূল্যে চিকিৎসা, ওষুধ ও চোখের ড্রপ পেয়ে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। অন্যদিকে চিতড্ডা ইউনিয়নের নাসিমা বেগমের চোখে ছানি শনাক্ত হওয়ায় তাঁর অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
আয়োজকেরা জানান, অস্ত্রোপচারের জন্য নির্বাচিত প্রায় ৭০ জন রোগীর যাতায়াত, থাকা-খাওয়া, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, ওষুধ ও চশমার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
বরুড়া জনকল্যাণ সমিতি, ঢাকার সার্বিক সহযোগিতায় এবং চিতড্ডার সামাজিক সংগঠন বীকনের সহায়তায় কর্মসূচিটি আয়োজন করা হয়। চিকিৎসাসেবা পরিচালনা করে বাংলাদেশ জাতীয় অন্ধ কল্যাণ সমিতি, কুমিল্লা।
আয়োজন সফল করতে সহযোগিতা করেন বরুড়া উপজেলা জনকল্যাণ সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ ও বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মো. মনির হোসেন। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বীকনের আহ্বায়ক ও ন্যাশনাল ব্যাংক বরুড়া শাখার ব্যবস্থাপক মো. মহসিন, ব্যাডেম জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র মেডিকেল টেকনোলজিস্ট স্বপন কুমার দাস, ঢাকাস্থ বরুড়া উপজেলা কল্যাণ সমিতির সাবেক ও বর্তমান সহসভাপতি আলহাজ্ব মোহাম্মদ আমির হোসেন ভূঁইয়া ও জহিরুল হক, সমাজকল্যাণ সম্পাদক মো. মেহেদী হাসান শিশির, অর্থ সম্পাদক মনজুর হোসেন পাটোয়ারী, নির্বাহী সদস্য আব্দুল হাই গাজী ও মো. মেহেদী হাসান, সাবেক নির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ ইউনুস মিয়া এবং আজীবন সদস্য ওদুদ মিয়া ও মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন। সমিতির নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় রাজনীতিবিদ, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকদের ভাষ্য, প্রত্যন্ত এলাকার দরিদ্র ও অসহায় মানুষের দোরগোড়ায় চক্ষুসেবা পৌঁছে দেওয়াই এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এ ধরনের মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতে বরুড়ার আরও ইউনিয়নে ছড়িয়ে পড়বে। এতে অর্থের অভাবে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত আরও অসংখ্য মানুষ বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসার সুযোগ পাবেন।