মোঃআনজার শাহ
কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের চোখে আলো ফেরানোর লক্ষ্যে মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে বরুড়া উপজেলা জনকল্যাণ সমিতি, ঢাকা। সমিতির উদ্যোগে আগামীকাল শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের পেরুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হবে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও ছানি রোগী বাছাই কার্যক্রম।
সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলবে এ সেবামূলক কার্যক্রম। এতে ছানি রোগী বাছাইয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের চক্ষুরোগে আক্রান্ত মানুষের প্রাথমিক পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা দেওয়া হবে। আয়োজকেরা জানিয়েছেন, কর্মসূচিতে সব বয়সের রোগীরা অংশ নিতে পারবেন।
প্রাথমিক পরীক্ষার পর যেসব রোগীর অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হবে, তাঁদের সেদিনই চক্ষু হাসপাতালের নিজস্ব গাড়িতে করে কুমিল্লা শহরে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। অস্ত্রোপচারের জন্য নির্বাচিত রোগীদের যাতায়াত, থাকা-খাওয়া, চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চশমা সবকিছুই বিনামূল্যে সরবরাহ করা হবে।
এ ছাড়া সাধারণ চক্ষুরোগীদেরও বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হবে। মানবিক এ উদ্যোগে সার্বিক সহযোগিতা করছে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সংস্থা অরবিস ইন্টারন্যাশনাল।
যা সঙ্গে আনতে হবে:
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ছানি অস্ত্রোপচারে আগ্রহী রোগীদের অবশ্যই একটি সচল মোবাইল নম্বর ও ভোটার পরিচয়পত্রের ফটোকপি সঙ্গে আনতে হবে।
অস্ত্রোপচারের জন্য নির্বাচিত পুরুষ রোগীদের একটি পরিষ্কার লুঙ্গি এবং নারী রোগীদের একটি শাড়ি সঙ্গে আনার অনুরোধ করা হয়েছে। এতে হাসপাতালে অবস্থানকালে তাঁদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনা সহজ হবে।
পরিচালনায় বাংলাদেশ জাতীয় অন্ধ কল্যাণ সমিতি:
বরুড়া উপজেলা জনকল্যাণ সমিতি, ঢাকা-এর সার্বিক সহযোগিতায় আয়োজিত এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে বাংলাদেশ জাতীয় অন্ধ কল্যাণ সমিতি, কুমিল্লা।
সংগঠনটির চক্ষু হাসপাতাল কুমিল্লার শংকরপুর, আলেখারচর বিশ্বরোডে অবস্থিত। হাসপাতালটি কোকা-কোলা ও ব্র্যাক অফিসের মাঝামাঝি এলাকায় অবস্থিত।
যোগাযোগ:
চক্ষু চিকিৎসা কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ও নিবন্ধনের জন্য প্রোগ্রাম অফিসার মো. শাহজাহানের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে।
মোবাইল নম্বর: ০১৭৭৬-৩৯২৯৩০, ০১৭১২-৮১৬০৩৫
দৃষ্টিশক্তি মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদগুলোর একটি। সেই আলো হারিয়ে অন্ধকারে থাকা মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে বরুড়া উপজেলা জনকল্যাণ সমিতির এ উদ্যোগ ইতিমধ্যে এলাকায় প্রশংসা কুড়িয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এ কর্মসূচির মাধ্যমে বহু অসহায় মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসা পাবেন এবং অনেকে ফিরে পাবেন নতুন করে দেখার আনন্দ।