জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক:
বুড়িগঙ্গা নদীকে দূষণমুক্ত করার পাশাপাশি জনসাধারণকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সচেতন করতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) ও বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন। ‘বর্জ্যের বিনিময়ে ভাসমান বাজার’ নামে এ কর্মসূচির মাধ্যমে নদীর তীরে পড়ে থাকা বর্জ্য সংগ্রহ করে এর বিনিময়ে দেওয়া হচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সোয়ারীঘাট লঞ্চঘাটে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। একটি লঞ্চকে সাজিয়ে অস্থায়ী ভাসমান বাজার তৈরি করা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বুড়িগঙ্গার তীরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বর্জ্য সংগ্রহ করে নির্ধারিত স্থানে জমা দেওয়ার বিনিময়ে বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য উপহার হিসেবে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, বুড়িগঙ্গা নদীকে কেন্দ্র করেই প্রাচীন ঢাকা গড়ে উঠেছিল। ব্যবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে এ নদীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। কিন্তু অবৈধ দখল ও যত্রতত্র বর্জ্য ফেলার কারণে নদীটির অস্তিত্ব বর্তমানে হুমকির মুখে পড়েছে।
তিনি বলেন, বুড়িগঙ্গাকে রক্ষা করা না গেলে ভবিষ্যতে এর প্রভাব আরও ভয়াবহ হতে পারে। একদিনের কর্মসূচির মাধ্যমে নদীর সব সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। তবে এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে নদীর তীরবর্তী বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করা সম্ভব হবে।
ডিএসসিসি প্রশাসক জানান, ঢাকার চারপাশের নদীগুলোকে নৌ-চলাচলের উপযোগী করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বুড়িগঙ্গা, ধলেশ্বরী, শীতলক্ষ্যা, বালু ও তুরাগ নদীকে পুনরুজ্জীবিত করার বিষয়েও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে কাজ চলছে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে পরিচ্ছন্নতা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে টানা তিন মাসের বিশেষ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। নগরীর ৭৫টি ওয়ার্ডে প্রতিদিন পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি প্রতি শনিবার বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হবে।
কর্তব্যে অবহেলা করলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান ডিএসসিসি প্রশাসক। পাশাপাশি কোথাও এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।
বর্জ্যকে সম্পদে পরিণত করার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মো. আবদুস সালাম বলেন, বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ, গ্যাস, কম্পোস্ট সার ও ডিজেল উৎপাদনের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করা সম্ভব হলে যত্রতত্র বর্জ্য ফেলার প্রবণতাও কমবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে জনসচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, মানুষের অসাবধানতার কারণেও ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে। ডাবের খোসা, এসি, ছাদ কিংবা ড্রেনে যেন দীর্ঘ সময় পানি জমে না থাকে, সেদিকে সবাইকে নজর রাখার আহ্বান জানান তিনি।
একই সঙ্গে নগরবাসীর দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়—এমন কোনো কর্মসূচি না নিয়ে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য শহর গঠনে সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান ডিএসসিসির প্রশাসক।
‘বর্জ্যের বিনিময়ে ভাসমান বাজার’ কর্মসূচির আয়োজকদের আশা, এ উদ্যোগের মাধ্যমে নদীর তীরবর্তী এলাকায় বর্জ্য ফেলার প্রবণতা কমানোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ রক্ষার বিষয়ে সচেতনতা বাড়বে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান, ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।