নতুন পে-স্কেলে এমপিও শিক্ষকরা কোথায়, প্রজ্ঞাপনে নেই স্পষ্ট নির্দেশনা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

নতুন জাতীয় বেতনস্কেল অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর প্রজ্ঞাপন জারি হলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নিয়ে এতে কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। ফলে নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন কীভাবে সমন্বয় করা হবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।

গত বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের বাস্তবায়ন-১ অনুবিভাগ থেকে ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ জারি করা হয়। পরে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) এটি গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির একটি অংশ কার্যকর হবে। পর্যায়ক্রমে ২০২৭ সালের জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামোর শতভাগ কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একইভাবে পেনশনভোগীরাও ধাপে ধাপে বর্ধিত নিট পেনশন পাবেন।

এর আগে গত ৩১ আগস্ট নবম জাতীয় পে-স্কেলের প্রস্তাব অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। এরপর সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

এমপিও শিক্ষকদের নিয়ে নেই নির্দেশনা

নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপনে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা নিয়ে কোনো নির্দেশনা রাখা হয়নি। ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন কীভাবে সমন্বয় করা হবে, সেটি এখনো স্পষ্ট নয়।

বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) তথ্য অনুযায়ী, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) অধীনে প্রায় ৩ লাখ ৯৮ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে রয়েছেন প্রায় পৌনে ২ লাখ এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে রয়েছেন ২৩ হাজারের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী।

অর্থাৎ বিপুলসংখ্যক এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর নতুন পে-স্কেলের আওতায় বেতন-ভাতা কীভাবে নির্ধারণ ও সমন্বয় করা হবে, সে বিষয়ে এখনো আলাদা নির্দেশনার অপেক্ষা রয়েছে।

বাড়িভাড়া ভাতা ১৫ শতাংশ

এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা এতদিন মূল বেতনের পাশাপাশি মাসে ১ হাজার টাকা বাড়িভাড়া এবং ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পেয়ে আসছিলেন।

সম্প্রতি আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়িভাড়া ভাতা মূল বেতনের ১৫ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। দুই ধাপে তা কার্যকর করা হয়েছে।

প্রথম ধাপে ১৫ শতাংশের মধ্যে সাড়ে ৭ শতাংশ, তবে ন্যূনতম ২ হাজার টাকা, গত বছরের ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর করা হয়। বাকি সাড়ে ৭ শতাংশ চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়।

তবে নতুন পে-স্কেলের সঙ্গে এসব বেতন ও ভাতা কীভাবে সমন্বয় হবে, সে বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে কোনো নির্দেশনা না থাকায় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামোর সুবিধা পাওয়ার বিষয়টি এখনো পরিষ্কার নয়।

প্রাথমিক শিক্ষকদের ১৫ শতাংশ বিশেষ সুবিধা বাতিল

নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপনে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। এতদিন তারা মূল বেতনের সঙ্গে ১৫ শতাংশ বিশেষ সুবিধা পেতেন। নতুন বেতনস্কেল কার্যকর হওয়ার তারিখ ১ জুলাই থেকে এ সুবিধা বিলুপ্ত হয়েছে বলে গণ্য করা হবে।

অর্থাৎ ১ জুলাই থেকে প্রজ্ঞাপন জারির আগ পর্যন্ত কোনো শিক্ষক ১৫ শতাংশ বিশেষ সুবিধা হিসেবে যে অর্থ পেয়েছেন, তা নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী প্রাপ্য বকেয়া অর্থের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

তবে ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে অবসরোত্তর ছুটিতে থাকা কর্মচারীরা অবসরোত্তর ছুটি শেষ না হওয়া পর্যন্ত ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে যে হারে বিশেষ সুবিধা পেতেন, সেই হারে সুবিধা পাবেন বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৬৫ হাজার ৫৬৫টি। এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষক রয়েছেন ৩ লাখ ৬২ হাজার ৭০৯ জন।

সব মিলিয়ে নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা কীভাবে নতুন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করা হবে, সে বিষয়ে পৃথক নির্দেশনার বিষয়টি এখনো স্পষ্ট হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *