বাঁশখালী থানা এলাকায় ওসি রবিউলের অভিযান

কামরুল ইসলাম:

চট্টগ্রামের বাঁশখালী থানা এলাকায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল হকের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে মালিকের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিপুল পরিমাণ মালামাল ও নগদ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আদালতের রায়ে সাজাপ্রাপ্ত এক কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (৩ অক্টোবর) গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল হক। গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম আমির হোসেন। তিনি বাঁশখালী উপজেলার কাথরিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মানিক পাঠান এলাকার বাসিন্দা জেবুল হোছাইনের ছেলে। শুক্রবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ ও মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম নগরের ২৫ এন এ চৌধুরী রোড, আন্দরকিল্লার বাসিন্দা মো. জোবায়েরের মালিকানাধীন ‘মেসার্স জোবায়ের এন্টারপ্রাইজ’-এ অফিস সহকারী হিসেবে কাজ করতেন আমির হোসেন। প্রতিষ্ঠানের হিসাব সংরক্ষণ এবং গুদামে থাকা মালামালের হিসাব দেখাশোনার দায়িত্বও তার ওপর ছিল বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ১৭ এপ্রিল থেকে ২০১৮ সালের ১০ মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে আমির হোসেন ও তার সহযোগী জমির হোসেন পরস্পর যোগসাজশে প্রতিষ্ঠানের মালিকের পিতার স্বাক্ষর জাল করে গুদাম থেকে প্রায় ৪৪ লাখ ৫০ হাজার টাকার মালামাল সরিয়ে নেন। একই সঙ্গে মালামাল বিক্রির আরও ২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, সব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৪৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৮ সালের মার্চে প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক হিসাব, গুদামের মালামাল ও ব্যাংক হিসাব তলব করা হলে আমির হোসেন বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করেন। পরে ১৫ মার্চ থেকে তিনি প্রতিষ্ঠানে আসা বন্ধ করে দেন। তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি বলে মামলার বাদী অভিযোগ করেন। পরে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিক মো. জোবায়ের বাদী হয়ে চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। মামলায় প্রতারণা, জালিয়াতি ও জাল দলিল ব্যবহারসহ দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

মামলার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আমির হোসেনকে বিভিন্ন ধারায় কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেন। রায়ের পর তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করা হয়। রায়ে উল্লেখ করা হয়, The Penal Code, ১৮৬০-এর ৪০৮ ধারার অধীন ২ (দুই) বছর সশ্রম কারাদণ্ড, ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৩০ (ত্রিশ) দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড; The Penal Code, ১৮৬০-এর ৪৬৭ ধারার অধীন ২ (দুই) বছর সশ্রম কারাদণ্ড, ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৩০ (ত্রিশ) দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড; The Penal Code, ১৮৬০-এর ৪৬৮ ধারার অধীন ২ (দুই) বছর সশ্রম কারাদণ্ড, ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৩০ (ত্রিশ) দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং The Penal Code, ১৮৬০-এর ৪৭১ ধারার অধীন ২ (দুই) বছর সশ্রম কারাদণ্ড, ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৩০ (ত্রিশ) দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। সকল সাজার মেয়াদ একসঙ্গে গণনা করা হবে।

রায়ে আরও উল্লেখ করা হয়, সাজা উল্লেখপূর্বক অভিযুক্ত (দণ্ডিত) মো. আমির হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ইস্যু করা হোক। অভিযুক্ত (দণ্ডপ্রাপ্ত) ধৃত বা আত্মসমর্পণের তারিখ থেকে সাজার মেয়াদ গণনা শুরু হবে। সেই সাজা পরোয়ানার ভিত্তিতেই বাঁশখালী থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে আমির হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল হক বলেন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি আমির হোসেনের অবস্থান সম্পর্কে গোপন তথ্য পেয়ে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে তাকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *