বাগেরহাটে সংবর্ধনার ফুলে ফুলে ঢেকে গেলেন জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ

 

মোঃআনজার শাহ

সত্যের পক্ষে কলম ধরাই যাঁদের ব্রত, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদই যাঁদের পরিচয় সেই কলমের সৈনিকদের সম্মান জানাতে শুক্রবার (১২ জুন) সন্ধ্যায় বাগেরহাট যেন পরিণত হলো এক আলোকিত মিলনক্ষেত্রে। বাগেরহাট প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক প্রাণবন্ত ও হৃদয়স্পর্শী সাংবাদিক মিলনমেলায় জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে দেওয়া হলো উষ্ণ ও আন্তরিক ফুলেল সংবর্ধনা যা এই অঞ্চলের সাংবাদিকতার ইতিহাসে একটি স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।

যাঁদের ঘিরে আজকের এই আয়োজন,
এই বিশেষ সংবর্ধনার কেন্দ্রে ছিলেন দুই বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার কেন্দ্রীয় নীতি-নির্ধারণ পরিষদের সদস্য সচিব মুহাম্মদ মনজুর হোসেন যাঁর দূরদর্শী নেতৃত্ব সংগঠনকে বারবার সঠিক পথ দেখিয়েছে। এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব লায়ন সিকদার মোহাম্মদ আরিফুল আলম টিটো যিনি একাধারে সংবাদ৩৬০-এর প্রকাশক ও সম্পাদক এবং প্রবাসী পল্লী গ্রুপের জনসংযোগ ও মিডিয়া প্রধান হিসেবে গণমাধ্যম জগতে এক উজ্জ্বল নাম। তাঁদের সঙ্গে সংগঠনের অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকেও এই সংবর্ধনায় সম্মানিত করা হয়।

ফুলে ফুলে অভিষিক্ত হলেন অতিথিরা,
বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক মানবজমিনের জেলা প্রতিনিধি আবু সাঈদ শুনু অতিথিদের ফুলেল শুভেচ্ছায় আন্তরিকভাবে বরণ করে নেন। তিনি সাংবাদিকতার মানোন্নয়ন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা এবং পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার নিরলস ও অক্লান্ত অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের প্রযুক্তি সচিব মো. নুরনবী সোহেল, বাগেরহাট জেলা শাখার সভাপতি এম. হেদায়েত হোসাইন লিটন, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শওকত হোসেন, পিরোজপুর জেলা শাখার সভাপতি ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য হাসান মামুনসহ সংগঠনের কেন্দ্রীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। এ ছাড়া প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেডের দৈনিক দেশবার্তা ও দৈনিক নতুন সময় পত্রিকার প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমের বিপুলসংখ্যক সাংবাদিক অনুষ্ঠানকে মুখরিত করে তোলেন।

৪৫ বছরের গৌরব এক মহান প্রতিষ্ঠাতার অমর উত্তরাধিকার
অনুষ্ঠানে বক্তারা আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন,
“জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা আজ কোনো সাধারণ সংগঠন নয় — এটি ৪৫ বছরের ঘাম, ত্যাগ আর স্বপ্নের ফসল। এই দীর্ঘ ও গৌরবময় পথচলার পেছনে রয়েছেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম আলতাফ হোসেন যাঁর দূরদর্শী নেতৃত্ব, অফুরন্ত কর্মস্পৃহা এবং নিঃস্বার্থ ত্যাগ এই সংগঠনকে আজকের মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তাঁর আদর্শ ও অনুপ্রেরণা আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপে আলো দিয়ে যাবে।”
মফস্বলের কণ্ঠস্বরই দেশের প্রকৃত আয়না
বক্তারা গর্বের সঙ্গে উচ্চারণ করেন যে, মফস্বলের সাংবাদিকরাই এ দেশের তৃণমূলের মানুষের জীবন, সংগ্রাম, বেদনা ও সম্ভাবনার প্রকৃত গল্প জাতির সামনে তুলে ধরেন। তাঁরা হলেন সমাজের সেই নীরব নায়ক, যাঁদের কলমের আঁচড়ে বদলে যায় লাখো মানুষের ভাগ্য।

বক্তারা আরও বলেন, সংগঠনের আর্থিক স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করতে সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি বিজ্ঞাপন আহরণ, সাংবাদিক প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন কর্মশালা এবং প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক সাংবাদিকতার প্রসারে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এখন সময়ের সবচেয়ে জরুরি দাবি।
ঐক্যই শক্তি বিভেদ নয়, ভ্রাতৃত্বই পথ
কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সাংবাদিকদের ঐক্য, পেশাগত মর্যাদা রক্ষা এবং দেশ ও জনগণের কল্যাণে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা চর্চার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বলেন,
“সকল বিভেদ ও সংকীর্ণতাকে পেছনে ফেলে যখন আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব, তখন জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা হবে এ দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী, মর্যাদাবান ও কার্যকর সংগঠন। এটি স্বপ্ন নয় এটি আমাদের সুদৃঢ় সংকল্প।”

স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের সাংবাদিকদের মধ্যে সুসম্পর্ক, পারস্পরিক সহযোগিতা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও গভীর করার অঙ্গীকার নিয়ে অনুষ্ঠানটি পরিণত হয় এক অবিস্মরণীয় মিলনমেলায়।
দোয়া ও মোনাজাতে সমাপ্তি হৃদয় জুড়িয়ে গেল সবার
সৌহার্দ্যপূর্ণ, আনন্দঘন ও প্রাণবন্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই স্মরণীয় মিলনমেলার সমাপ্তি হয় দেশ, জাতি ও সমগ্র সাংবাদিক সমাজের সুখ, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় আন্তরিক দোয়া ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে।

সত্যের পতাকা উঁচুতে তুলে ধরার যে শপথ বাগেরহাটের এই সন্ধ্যায় উচ্চারিত হলো তা হোক সারা দেশের সাংবাদিক সমাজের অনুপ্রেরণা। কলমের শক্তিতেই বদলাবে দেশ, গড়ে উঠবে একটি সুন্দর ও আলোকিত আগামী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *