বান্দরবানে গণসংহতি আন্দোলনের গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত

মো. রাসেল:

গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে বান্দরবানের গণসংহতি আন্দোলন (জিএসএ), বান্দরবান পার্বত্য জেলা শাখার উদ্যোগে এক বিশাল গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেল ৩টায় জেলার মুক্তমঞ্চে নতুন রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ হওয়া এবং অবিলম্বে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সমাবেশে সকল জাতিগোষ্ঠীর সাংবিধানিক স্বীকৃতির নিশ্চয়তা এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কৃষি সহায়তা প্রদানের দাবি জানানো হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন গণসংহতি আন্দোলন, বান্দরবান জেলা শাখার সভাপতি নিজাম উদ্দিন মিজান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জিএসএর রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য সৈয়দ হাসান মারুফ রুমী। বিশেষ অতিথি ছিলেন জিএসএর জাতি-বৈচিত্র্যবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট উবাথোয়াই মারমা।

বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রভাষক রিপন চক্রবর্তী, অ্যাডভোকেট উথোয়াই ওয়াং মিন্টু এবং অ্যাডভোকেট উচাই মং মারমা।

বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীগুলো দীর্ঘকাল ধরে বৈষম্য ও বঞ্চনার শিকার। তাদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি এবং স্বাধিকার নিশ্চিত করা একটি ন্যায্য দাবি। ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে এ সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান সম্ভব বলে তারা মনে করেন।

এছাড়া সাম্প্রতিক বন্যায় বান্দরবানের কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। তাদের অবিলম্বে কৃষি সহায়তা প্রদান এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার দাবি জানান বক্তারা।

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন ছাত্র ফেডারেশনের নেতা মাম্যাচিং মারমা, সদর উপজেলা নেতা অজিত তংচংগ্যা, রোয়াংছড়ি উপজেলার আহ্বায়ক অংহ্লাচিং মারমা, জেলা কমিটির সদস্য মংসাই মারমা এবং সদর উপজেলা ও পৌরসভার নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা বলেন, বান্দরবানের উন্নয়ন এবং শান্তি বজায় রাখতে সরকার ও প্রশাসনকে আরও আন্তরিক ভূমিকা পালন করতে হবে। ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীগুলোর অধিকার রক্ষা এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নে সরকারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

সমাবেশ শেষে একটি প্রতিবাদ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বান্দরবানের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। সমাবেশে গণসংহতি আন্দোলনের নেতা-কর্মী, সমর্থক এবং সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *