বান্দরবানে ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘিরে তুমুল বিতর্ক, আলোচনার কেন্দ্রে ফরহাদ হোসেন জিকু

মোঃ শামীম হোসেন সিকদার:

দীর্ঘ নয় বছর পর বান্দরবান জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণাকে ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক ও অসন্তোষ। নতুন এই কমিটিকে ঘিরে স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে, আর সেই বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছেন সদ্য ঘোষিত আহ্বায়ক ফরহাদ হোসেন জিকু।

কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির স্বাক্ষরিত ১০ সদস্যবিশিষ্ট এই কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ফরহাদ হোসেন জিকুকে। সদস্যসচিব হিসেবে মনোনীত হয়েছেন শহিদুল ইসলাম। এছাড়া সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন অংস্লাহা মারমা এবং যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন ত্রিপুরা, রিদওয়ানুল হক, আবুল কালাম আজাদ, কাউসার ইসলাম, মিঠুন কান্তি দাস, মো. রবিউল হোসেন ইরান ও মোহাম্মদ শেফায়েত হোসেন তারেক।

তবে কমিটি ঘোষণার পরপরই সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে আহ্বায়ক ফরহাদ হোসেন জিকুকে ঘিরে। স্থানীয় ছাত্রদলের একাধিক সাবেক ও ত্যাগী নেতা অভিযোগ করেছেন, জিকু দীর্ঘদিন ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন না। তাদের দাবি, ২০১৬ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তাকে কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রমে দেখা যায়নি।

আরও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে তার বয়স ও ব্যক্তিগত জীবন। জানা গেছে, ফরহাদ হোসেন জিকু ২০০৩ সালে এসএসসি পাস করেন এবং বর্তমানে তার বয়স প্রায় ৩৯ বছর। তিনি বিবাহিত এবং দুই সন্তানের জনক। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ত্যাগী ছাত্রনেতাদের প্রশ্ন—“দুই সন্তানের পিতা ও প্রায় ৪০ বছর বয়সী একজন ব্যক্তি কীভাবে ছাত্রদলের মতো ছাত্রসংগঠনের আহ্বায়ক হন?”

শুধু তাই নয়, জিকুর অতীত রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি আগে বান্দরবান জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের ১ নম্বর সদস্য ছিলেন এবং সেখান থেকে সরাসরি ছাত্রদলের শীর্ষ পদে আসীন হয়েছেন। এ বিষয়টি দলীয় নীতিমালা ও সাংগঠনিক কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেও দাবি করছেন অনেকেই।

বিক্ষুব্ধ ত্যাগী নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, “দীর্ঘ নয় বছর পর এমন একটি কমিটি আমাদের জন্য শাস্তিস্বরূপ। আমরা এমন কমিটি কখনো প্রত্যাশা করিনি।” তারা আরও বলেন, “যিনি আগে স্বেচ্ছাসেবক দলে ছিলেন, তিনি কীভাবে ছাত্রদলের আহ্বায়ক হন? এটি সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।”

এ অবস্থায় ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা বর্তমান কমিটি বাতিল করে নতুন করে গ্রহণযোগ্য ও ত্যাগী নেতাদের দিয়ে কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন। তারা কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে, বিষয়টি নিয়ে এখনো কেন্দ্রীয় ছাত্রদল বা সংশ্লিষ্ট নেতাদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দীর্ঘদিন পর কমিটি ঘোষণার পর এমন বিতর্ক সংগঠনের ভেতরে বিভক্তি আরও বাড়াতে পারে।

বান্দরবানের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন একটাই প্রশ্ন—এই বিতর্কিত কমিটি কি টিকে থাকবে, নাকি চাপের মুখে আসবে নতুন সিদ্ধান্ত?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *