শামীম হোসেন সিকদার:
বান্দরবান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সিকদার পাড়া এলাকায় সরকারি ঝিড়ি (প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশনের নালা) দখল করে আধাপাকা স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে আব্দুল মুন্নাফ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি ঝিড়ি ভরাট করে বড় বড় পাথর উত্তোলন ও স্থাপনা নির্মাণের ফলে এলাকার স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার আশঙ্কায় চরম উদ্বেগে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্র ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বান্দরবান সদর থানাধীন ৩১৩ নম্বর বান্দরবান মৌজার ৫৫৭ নম্বর হোল্ডিংভুক্ত প্রায় ৩ একর ৯০ শতক জমির মালিক দাবি করে আব্দুল মুন্নাফ (পিতা: দরবেশ আলী) তার জমির সীমানা ঘেঁষে থাকা একটি সরকারি ঝিড়ির ওপর আধাপাকা ঘর নির্মাণ করছেন। নির্মাণকাজের জন্য ঝিড়ি থেকে বড় বড় পাথর উত্তোলন করে বিক্রিরও অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
এলাকাবাসীর দাবি, ঝিড়িটি দীর্ঘদিন ধরে সিকদার পাড়ার প্রধান পানি ও বর্জ্য নিষ্কাশন পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বর্ষাকালে পাহাড়ি ঢলের পানি এই ঝিড়ি দিয়েই নিচের দিকে নেমে যায়। কিন্তু বর্তমানে ঝিড়ির বড় একটি অংশ দখল করে নির্মাণকাজ চালানো হওয়ায় পানি চলাচলের স্বাভাবিক পথ সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, বারবার বাধা দেওয়া হলেও অভিযুক্ত ব্যক্তি কোনো ধরনের তোয়াক্কা না করে গায়ের জোরে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা জানান, “ঝিড়িটি বন্ধ হয়ে গেলে সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো এলাকায় পানি জমে যাবে। পাহাড়ি এলাকার পানি নামার পথ বন্ধ হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। এতে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট এমনকি মানুষের জীবনও ঝুঁকির মুখে পড়বে।”
জানা গেছে, ৫৫৭ নম্বর হোল্ডিং সংক্রান্ত মালিকানা বিরোধ বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এ নিয়ে জজ কোর্টে মামলা চলমান আছে। এছাড়া ল্যান্ড রাইটার দিলীপ নামে এক ব্যক্তির ০.২০ শতক জায়গা নিয়ে সীমানা জটিলতার ঘটনায় পুলিশ তদন্তে গেলে নির্মাণকাজে বিঘ্ন ও বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে ৬৪১ নম্বর হোল্ডিংয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
তবে অভিযোগ রয়েছে, আদালতের নিষেধাজ্ঞা ও প্রশাসনিক নির্দেশনা উপেক্ষা করেই আব্দুল মুন্নাফ নির্মাণকাজ অব্যাহত রেখেছেন। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
এ বিষয়ে কয়েকজন সচেতন নাগরিক বলেন, “সরকারি ঝিড়ি, খাল কিংবা প্রাকৃতিক পানি প্রবাহের পথ দখল করা শুধু বেআইনি নয়, এটি পরিবেশ ও জনস্বার্থের জন্য মারাত্মক হুমকি। ব্যক্তি স্বার্থে সরকারি সম্পদ দখল করে স্থাপনা নির্মাণের প্রবণতা বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।”
অভিযোগের বিষয়ে বান্দরবান পৌরসভা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তারা জানান, সরকারি খাল, ঝিড়ি বা পানি নিষ্কাশনের পথ দখল করে কোনো ব্যক্তি স্থাপনা নির্মাণ করতে পারেন না। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তারা।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল, ভুক্তভোগী এলাকাবাসী ও পরিবেশ সংশ্লিষ্টরা অবিলম্বে অবৈধ নির্মাণকাজ বন্ধ, সরকারি ঝিড়ি উদ্ধার এবং পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে জেলা প্রশাসন ও পৌর প্রশাসকের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে পুরো এলাকায় কৃত্রিম জলাবদ্ধতা ও পরিবেশগত বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।