বান্দরবানের সাঙ্গু নদীতে ২৭ ঘণ্টা পর ভেসে উঠল মোঃ হোসেনের মরদেহ

মোঃ শামীম হোসেন সিকদার:

বান্দরবানের সাঙ্গু নদীতে ডুবে যাওয়া মোঃ হোসেন (৫৫)-এর মরদেহ অবশেষে উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত মোঃ হোসেন বান্দরবান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের লাঙ্গীপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

জানা যায়, গতকাল শুক্রবার দুপুর ১১টা ৩০ মিনিটের সময় সাঙ্গু নদীতে গোসল বা কাজ করতে নেমে ডুবে যান তিনি। ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা উদ্ধারের চেষ্টা চালান। খবর দেওয়া হয় ফায়ার সার্ভিসকে। ফায়ার সার্ভিসের দল ঘটনাস্থলে এসে দীর্ঘ সময় তল্লাশি চালিয়েও তাঁর সন্ধান পায়নি।

অবশেষে আজ শনিবার দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে, ডুবে যাওয়ার প্রায় ২৭ ঘণ্টা পর সাঙ্গু নদীতে তাঁর মরদেহ ভেসে উঠতে দেখেন স্থানীয়রা। বিষয়টি বান্দরবান সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জনাব মাসুদ পারভেজকে জানানো হলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতালে পাঠায়।

মরণফাঁদ সাঙ্গু, এ বছরই প্রাণ গেল ৫ জনের

স্থানীয়দের মতে, সাঙ্গু নদী এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। দেখতে পানি কম মনে হলেও নিচে রয়েছে প্রচণ্ড ঘূর্ণিস্রোত, গভীর গর্ত ও পিচ্ছিল পাথর। সামান্য পানির মধ্যেই হঠাৎ করে মানুষ তলিয়ে যায়। চলতি বছরেই এই নদীতে প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ৫ জন।

প্রতিবছরই এই নদী কেড়ে নেয় কারও সন্তান, কারও ভাই, কারও বাবা। একটি পরিবারের স্বপ্ন মুহূর্তেই শেষ হয়ে যায়। আমাদের বান্দরবানে যদি নিজস্ব ডুবুরি দল থাকত, তাহলে হয়তো অনেকের মা-বাবাকে সন্তানের লাশের জন্য অথবা সন্তানকে পিতার লাশের জন্য ২৭ ঘণ্টা নদীর পাড়ে বসে থাকতে হতো না।

সবচেয়ে বড় সংকট, বান্দরবানে দক্ষ ডুবুরি নেই

অনুসন্ধানে জানা যায়, বান্দরবান জেলায় ফায়ার সার্ভিসের কোনো স্থায়ী ও দক্ষ ডুবুরি নেই। নদীতে কেউ ডুবে গেলে খবর দিতে হয় চট্টগ্রাম বা রাঙামাটিতে। সেখান থেকে ডুবুরি দল আসতে সময় লাগে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা। ততক্ষণে জীবিত উদ্ধারের সোনালি সময় শেষ হয়ে যায়। এমনকি মৃতদেহও তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায় না, ভেসে ওঠা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।

এলাকাবাসীর দাবি

এই দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পেতে প্রশাসনের যথাযথ গুরুত্ব ও ভূমিকা রাখতে হবে। বান্দরবানবাসীর প্রাণের দাবি—

1. বান্দরবান ফায়ার সার্ভিসে স্থায়ীভাবে ২-৩ জন দক্ষ ও অভিজ্ঞ ডুবুরি নিয়োগ দিতে হবে।

2. আধুনিক উদ্ধার সরঞ্জাম, স্পিডবোট ও লাইফ জ্যাকেট সরবরাহ করতে হবে।

3. সাঙ্গু নদীর বিপজ্জনক স্থানগুলো চিহ্নিত করে সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড লাগাতে হবে।

এলাকাবাসী বলেন, “আমাদের বান্দরবানবাসীকে এই মৃত্যুর কবল থেকে রক্ষা করতে সহযোগিতা করুন। আর যেন কোনো মায়ের কোল খালি না হয়।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *