বাবার মোটরসাইকেল চালিয়ে কোচিংয়ে যাওয়ার পথে স্কুলছাত্রের মৃত্যু

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় রাইসুল ইসলাম সালফি (১৪) নামে এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে গুরুতর আহত হওয়ার পর রোববার (৪ অক্টোবর) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত রাইসুল ইসলাম সালফি বাজিতপুর আফতাব উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে বাজিতপুর উপজেলার বলিয়ারদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিল্পী আক্তার ও রফিকুল ইসলাম রোকন দম্পতির একমাত্র সন্তান।

পুলিশ, পরিবার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে সালফি তার বাবার মোটরসাইকেল চালিয়ে বাজিতপুর পৌরসভার মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে কোচিংয়ে যাচ্ছিল। পৌরসভার সামনে পৌঁছালে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে তার মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। এতে মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় আহত হয় সে।

পরে তাকে বাজিতপুরের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার তার মৃত্যু হয়।

সালফির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবার, স্বজন, সহপাঠী, শিক্ষক ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে তার বাবা-মা শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন।

এ ঘটনায় এলাকাবাসী সড়কে বেপরোয়া যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি অপ্রাপ্তবয়স্কদের হাতে মোটরসাইকেলের মতো যানবাহন তুলে দেওয়ার বিষয়ে অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

বাজিতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার পর সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি আটক করা হয়েছে। নিহত স্কুলছাত্রের পরিবার মামলা করতে চাইলে তা গ্রহণ করা হবে।

ওসি বলেন, ‘বাচ্চাদের হাতে মোটরসাইকেল তুলে দেওয়া পরিবারের একটি বড় ভুল।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *