কামরুল ইসলাম:
চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনের দুই সহযোগীকে একটি বিদেশি পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলিসহ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার দিবাগত রাতে নগরের অক্সিজেন-কুয়াইশ সড়ক এলাকায় অস্ত্র ও মাদকবিরোধী নিয়মিত অভিযানের সময় তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সোমবার (২৭ জুলাই) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ এ তথ্য জানান।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন বায়েজিদ বোস্তামী থানার ট্যানারি বটতলা এলাকার মো. ইউসুফের ছেলে মো. আসিফ (২৫) এবং হাটহাজারী উপজেলার আমান বাজার এলাকার মৃত ফরিদুল আলমের ছেলে সাইদুল ইসলাম ওরফে আরিফ (২৪)।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রোববার দিবাগত রাতে অক্সিজেন-কুয়াইশ সড়ক এলাকায় নিয়মিত অস্ত্র ও মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করছিল পুলিশ। এ সময় সন্দেহজনকভাবে চলাফেরা করা দুই ব্যক্তিকে আটক করে তল্লাশি চালানো হয়। পরে তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, জব্দ করা পিস্তলটি ইতালিতে তৈরি। অস্ত্রটির ম্যাগাজিনে দুই রাউন্ডসহ মোট চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় সোমবার বায়েজিদ বোস্তামী থানায় অস্ত্র আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুজন ডেভিড ইমনের সহযোগী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার মো. আসিফের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অস্ত্র, ডাকাতি ও হত্যাচেষ্টাসহ মোট ১১টি মামলা রয়েছে। অপর গ্রেপ্তার সাইদুল ইসলাম ওরফে আরিফের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির দুটি মামলা রয়েছে।
ইমনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ
পুলিশ জানায়, আন্ডারওয়ার্ল্ডে আলোচিত এবং বিদেশে পলাতক সাজ্জাদ আলী খানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন এবং তাঁর গ্যাংয়ের সদস্যদের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের আগস্টের পর দেড় বছরে অন্তত এক ডজন হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের ৯ জানুয়ারি একটি চাঁদাবাজির মামলায় দুই সহযোগীসহ ইমনকে বায়েজিদ থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান।
এ ছাড়া বাকলিয়ার জোড়া হত্যা, পতেঙ্গায় সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর হত্যা এবং বায়েজিদে সরোয়ার হোসেন বাবলা হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের একজন হিসেবে ইমনের নাম রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
চাঁদাবাজির অভিযোগে হামলার ঘটনাতেও নাম
সর্বশেষ গত ১৩ জুলাই নগরের চকবাজার এলাকায় ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ডটনেট (ডিডিএন)-এর কার্যালয়ে দুই কোটি টাকা চাঁদা দাবিতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগেও মোবারক হোসেন ইমনের নাম উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য, নগরের বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও অস্ত্রের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় বায়েজিদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইমনের দুই সহযোগীকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, নগরের বিভিন্ন অপরাধী চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে দায়ের করা অস্ত্র আইনের মামলায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো ব্যক্তি বা অবৈধ অস্ত্রের উৎস সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায় কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।