বারিধারায় নির্মাণশ্রমিক নিহত: কিশোরের জামিন আবেদন, তদন্তে নতুন তথ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজধানীর বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনে প্রাইভেটকারের চাপায় নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান মীম নিহতের ঘটনায় গ্রেপ্তার কিশোর আজান আলী শরীফের পক্ষে জামিন আবেদন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. আলমগীর হোসেন ঢাকার আদালতে এ আবেদন করেন। বিষয়টি নিয়ে পুলিশের তদন্তের বক্তব্য ও আসামিপক্ষের দাবিতে ভিন্নতা রয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮-এর বিচারক মো. আব্দুল মোক্তাদিরের আদালতে আজান আলী শরীফের জামিন আবেদনের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার উপপরিদর্শক মো. আরিফীন ইসলাম কিশোরকে আদালতে হাজির করে তাকে আটক রাখার আবেদন করেন।

তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়েছে, মামলার তদন্তের সময় ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। এতে দেখা যায়, দুর্ঘটনার পর প্রাইভেটকারের ডান পাশের চালকের আসনের দরজা খুলে আজান আলী শরীফ বের হয়ে আসেন। তদন্তে দুর্ঘটনার সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যাচ্ছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে আটক রাখার আবেদন করা হয়।

তবে কিশোরের পক্ষে করা জামিন আবেদনে এসবের বিপরীত দাবি করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, আজান আলী শরীফ গাড়ির চালকের পাশের আসনে বসে ছিলেন; তিনি গাড়ি চালাচ্ছিলেন না। আবেদনে আরও দাবি করা হয়, নিহত মেহেদী শ্রবণ ও বাকপ্রতিবন্ধী ছিলেন এবং হর্ন দেওয়ার পরও দ্রুত সরে যেতে না পারায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। এগুলো আসামিপক্ষের জামিন আবেদনে করা দাবি; আদালতে এসব দাবির সত্যতা নির্ধারণের বিষয়টি বিচারাধীন।

জামিন আবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, স্থানীয়ভাবে আপস-মীমাংসার মাধ্যমে কিশোরের পরিবারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষকে নগদ ৯ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। এ দাবিটিও আসামিপক্ষের আবেদনে করা হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনের ১ নম্বর সড়কের ফুটপাতে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান। এ সময় একটি প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাতে উঠে তাকে চাপা দেয়। পরে তাকে উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে নিহতের বয়স ২৪ বছর বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন গাড়ির চালকের আসনে থাকা কিশোরকে আটক করে পুলিশের কাছে দেন। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করে পুলিশ তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে প্রাথমিক তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়ে তাকে পুনরায় হেফাজতে নেয়।

এ ঘটনায় মেহেদীর বড় ভাই মোক্তাদীর ইসলাম ২৩ সেপ্টেম্বর গুলশান থানায় সড়ক পরিবহন আইনে মামলা করেন। মামলায় গাড়িটির চালক হিসেবে আকাশ মারক (৪৪) নামের একজনকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারে তার বিরুদ্ধে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে মেহেদীকে চাপা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, আকাশ মারক ঘটনার পর থেকে পলাতক এবং তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

অন্যদিকে, কিশোরের আইনজীবী তাকে জামিন দেওয়ার আবেদন করেছেন। দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি কে চালাচ্ছিল এবং ঘটনায় কার কী ভূমিকা ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণের কথা জানিয়েছে পুলিশ। ফলে মামলার পরবর্তী তদন্ত ও আদালতের শুনানিতে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *