বিআরটিএ মিরপুর মেট্রো সার্কেল-১ ঘিরে অভিযোগের পাহাড়, ‘নাজমুল বাহিনী’র দৌরাত্ম্যে জিম্মি গ্রাহকরা!

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) মিরপুর মেট্রো সার্কেল-১ কার্যালয় ঘিরে ঘুষ, অনিয়ম, হয়রানি ও দালালচক্রের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ উঠেছে। গ্রাহকদের অভিযোগ, মোটরযান পরিদর্শক খলিল হাসানের সহযোগী হিসেবে পরিচিত নাজমুলের নেতৃত্বে একটি দালালচক্র সেবা নিতে আসা সাধারণ গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে।

সেবা নিতে আসা একাধিক গ্রাহক ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের অভিযোগ, নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত ফি পরিশোধ করেও অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত সেবা পেতে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়। অতিরিক্ত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গাড়ির ফাইল আটকে রাখা, পাস করার মতো গাড়িকেও ত্রুটি দেখিয়ে ফেল করানোসহ নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, মেট্রো সার্কেল-১ কার্যালয়ের ভেতরে নাজমুলের প্রভাব রয়েছে। তার মাধ্যমে বিভিন্ন কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার কথা বলে গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে, বিষয়টি নিয়ে মোটরযান পরিদর্শক খলিল হাসানের সঙ্গে কথা বলতে গেলে সাংবাদিকদের কার্যালয়ে প্রবেশে বাধা এবং হয়রানির অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, নাজমুল ও তার সহযোগীরা সাংবাদিকদের কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করতে দেননি।

স্থানীয় সূত্র ও গ্রাহকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মিরপুর মেট্রো সার্কেল-১ এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ দালালচক্র সক্রিয় রয়েছে। তাদের দাবি, এই চক্রের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের পাশাপাশি গ্রাহকদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, অতিরিক্ত টাকা না দিলে গাড়ির কাগজপত্র বা ফাইল আটকে রাখা হয়। এমনকি গাড়ি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার মতো অবস্থায় থাকলেও নানা অজুহাতে ব্যর্থ দেখানোর অভিযোগ করেছেন কয়েকজন সেবাপ্রার্থী।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোটরযান পরিদর্শক খলিল হাসান ও নাজমুলের বক্তব্য প্রতিবেদকের কাছে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এদিকে, গ্রাহকদের দাবি, বিআরটিএ কার্যালয়ে দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করে সরাসরি ও হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ঘুষ, অনিয়ম ও গ্রাহক হয়রানির অভিযোগগুলো তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

সেবাপ্রার্থীদের অভিযোগ, সরকারি প্রতিষ্ঠানে সেবা নিতে গিয়ে যদি দালালদের দ্বারস্থ হতে হয়, তাহলে সাধারণ গ্রাহকদের ভোগান্তি কখন শেষ হবে? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছেন ভুক্তভোগীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *