বিদেশ পাঠানোর নামে প্রতারণার অভিযোগ: ৮ লাখ টাকা আত্মসাত, উল্টো মামলায় হয়রানির অভিযোগ

মোশাররফ হোসেন জসিম পাঠান ও নাছিমা খাতুন সুলতানা:

নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় বিদেশ পাঠানোর নামে প্রায় ৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে পাওনা টাকা ফেরত চাইতে গেলে ভুক্তভোগীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ডাকাতির মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বালিচাঁদা কোনাপাড়া গ্রামের মৃত শরাফত আলীর ছেলে মো. আশরাফুল আলম বাবুলকে বিদেশ পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে একই ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামের মৃত তালেব হোসেনের ছেলে মো. ছায়েদ মিয়া প্রায় ৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। অভিযোগ রয়েছে, গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ছায়েদ মিয়া ভ্রমণ ভিসার মাধ্যমে বাবুলকে বিদেশে পাঠান এবং সেখানে পৌঁছানোর পর আকামা (কর্মসংস্থান বৈধকরণ) করে দেওয়ার আশ্বাস দেন।

কিন্তু বিদেশে পৌঁছানোর পর বাবুলকে নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠলে তিনি কোনোভাবে দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফিরে বাবুল তার দেওয়া টাকা ফেরত চাইলে ছায়েদ মিয়া তা পরিশোধের আশ্বাস দিয়ে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন।

ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর গত ২৩ মার্চ ২০২৬ তারিখে ছায়েদ মিয়া ও তার ছেলে মো. সুহেল মিয়া টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলেন। কিন্তু ওই দিন বিকেলে টাকা চাইতে গেলে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়।

এরপর গভীর রাতে ছায়েদ মিয়ার বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে—এমন অভিযোগ এনে বাবুলসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এলাকাবাসীর দাবি, বিদেশে পাঠানোর টাকা ফেরত না দিতে পরিকল্পিতভাবে এই ‘ডাকাতির নাটক’ সাজানো হয়েছে।

ঢাকা থেকে প্রকাশিত একটি জাতীয় দৈনিকের সাংবাদিকরা সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বললে তারা এ অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, বাবুল মিয়াকে হয়রানি করতেই মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ আনা হয়েছে।

তারা আরও জানান, বাবুল মিয়ার বাড়ি থেকে অভিযুক্তদের বাড়িতে যেতে একটি বড় নদী পার হতে হয়, যেখানে নৌকা ছাড়া যাতায়াত সম্ভব নয়। এ অবস্থায় বাবুল মিয়ার পক্ষে সেখানে গিয়ে ডাকাতি করা বাস্তবসম্মত নয় বলে দাবি করেন এলাকাবাসী।

এ ঘটনায় মো. সুহেল মিয়া বাদী হয়ে নেত্রকোনা বিজ্ঞ আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন (দ্রুত বিচার) ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় মো. আশরাফুল আলম বাবুলসহ ৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ৭-৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি দ্রুত বিচার মোকাদ্দমা নং ৯(১)/২৬ হিসেবে নথিভুক্ত হয়।

আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-কে দায়িত্ব দিয়েছেন। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এদিকে, নিজের পাওনা টাকা আদায়ের দাবিতে ভুক্তভোগী বাবুল মিয়া গত ২১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে নেত্রকোনা জেলা পুলিশ সুপারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি দাবি করেন, তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় এলাকাবাসী, ভুক্তভোগী পরিবার এবং সংশ্লিষ্টরা জেলার ঊর্ধ্বতন প্রশাসন, বিজ্ঞ বিচারক, জেলা পুলিশ সুপার এবং তদন্ত কর্মকর্তার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তাদের প্রত্যাশা, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে এবং নিরীহ ব্যক্তিদের হয়রানি থেকে রক্ষা করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *